গত শুক্রবার থেকে পানির নিচে চট্টগ্রাম নগরীর একটি বড় অংশ। পাঁচদিনেও পরিস্থিতির তেমন একটা উন্নতি হয়নি। এরজন্য, অতিবৃষ্টি, আবর্জনায় পূর্ণ খাল-নালা আর সেবা সংস্থাগুলোর সমন্বয়হীন উন্নয়ন কার্যক্রমকে দুষছেন নগরবাসী। হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প ঘিরে সেবা সংস্থাগুলোর রশি টানাটানিকে দুঃখজনক বলছেন নগর-পরিকল্পনাবিদরা।
বন্দরনগরীতে ৩০ বছরের মধ্যে একদিনে সর্বোচ্চ ৩০৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের নতুন রেকর্ড হয়েছে গত রোববার। এছাড়া চলতি মাসে যেখানে বৃষ্টিপাত হওয়ার কথা ছিল ৫৩০ দশমিক ৬ মিলিমিটার সেখানে প্রথম ছয়দিনেই হয়েছে ৫শ ৫০ মিলিমিটারের বেশি। অতিবৃষ্টির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে পূর্ণিমার প্রভাবে স্বাভাবিকের চেয়ে অন্তত তিনফুট উঁচু জোয়ার।
অতিরিক্ত বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে মঙ্গলবার চট্টগ্রাম মহানগরীর সব স্কুল-কলেজ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। আরো দুদিন বৃষ্টি অব্যাহত থাকার পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বলছে, নগরীর বিশাল দুটি এলাকার পানি চাক্তাই খাল ও মহেশ খালের মাধ্যমে কর্ণফুলী নদীতে গিয়ে পড়ে। কিন্তু বর্তমানে যেভাবে পানি বাড়ছে, তা বের হওয়ার মতো প্রশস্ত নয় খাল দুটির উজানের মুখ। তার ওপর সিটি করপোরেশন ছোট নালাগুলো থেকে নিয়মিত আবর্জনা পরিষ্কার না করায়, সবই গিয়ে পড়ছে খালে।
আরও পড়ুন:
তিন দিন ধরে পানির নিচে চট্টগ্রাম
সংস্থাটির প্রধান প্রকৌশলী হাসান বিন শামস বলেন, ‘ড্রেনেজ মাস্টার প্ল্যানে বলা ছিলো যে আরেকটি খাল করতে হবে। বড়াল পাড়া খাল। এটা কিন্তু আমাদের নির্দেশনা ছিল আর সিটি করপোরেশনও প্রকল্পটা নিয়েছে। ১০-১১ বছর হলো এই প্রকল্প কিন্তু এখনো আলোর মুখ দেখেনি।’
জলাবদ্ধতা নিরসনে সমন্বয়ের বড় ধরনের অভাবের কথা স্বীকার করছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরীও। তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সমস্ত কিছুর দায়ভার তো মেয়রের উপর বর্তায়। এখানে ওয়াসা আছে, পিডিবি আছে, টিএন্ডটি আছে, গ্যাস আছে। কিন্তু সমন্বয়ের বিরাট একটা অভাব রয়ে গেছে।’
এদিকে নজিরবিহীন জনদুর্ভোগের ভেতর সেবা সংস্থাগুলো এমন পরস্পরবিরোধী অবস্থান কাম্য নয়, বলছেন বিশেষজ্ঞরা। নগর পরিকল্পনাবীদ আশিক ইমরান বলেন, ‘জনদূর্ভোগটাকে সর্বোচ্চ প্রায়রিটি দিয়ে এটা কিভাবে লাঘব করা যায়, সবাই মিলে বসে এই একটা কর্মপন্থা নির্ধারণ করবেন এটাই আমরা এখন আশা করি।’
বর্তমানে চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা নিরসনে ৫ হাজার ৬১৬ কোটি টাকার মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে সিডিএ। এছাড়া ১ হাজার ৩৭৪ কোটি টাকায় বারইপাড়া খাল নামে একটি নতুন খাল খননের কাজ শুরু করেছে সিটি করপোরেশন।



