ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া রাজধানীর কৃষি মার্কেটের ব্যবসায়ী ও দোকান মালিকেরা পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন। বঙ্গবাজারের মতো অস্থায়ীভাবে দোকান তৈরির সুযোগ করে দিলে ক্ষতি কিছুটা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব বলেও মনে করেন তাঁরা। শুক্রবার ক্ষতিগ্রস্ত মার্কেট পরিদর্শনে গিয়ে কৃষিমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
আগুনে পুড়ে যাওয়ার পর দোকানগুলোতে আছে শুধু ছাই। কেউ কেউ নিজের গ্রামের বাড়ির সম্পত্তি বিক্রি করে পুঁজি খাটিয়েছেন দোকানে, আবার কেউ কেউ সারা জীবনের সঞ্চয় জমিয়ে করেছিলেন একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। তবে এখন আর কিছুই থাকলে না। কৃষি মার্কেটের শত শত ব্যবসায়ী সব হারিয়ে আজ নিঃস্ব।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, বঙ্গবাজারের মতো যেন অস্থায়ীভাবে তাদের দোকান তৈরির সুযোগ দেওয়া হয়। এতে অনেকেই ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন।
এলাকার কাউন্সিলর ও কৃষি মার্কেট দোকান মালিক সমিতির সভাপতি সলিমুল্লাহ সলু বলেন, অস্থায়ীভাবে দোকান তৈরির ব্যবস্থা করা গেলে অনেক ব্যবসায়ীরাই হয়ত ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন।
এদিকে মার্কেট পরিদর্শন শেষে কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা না করে পুনর্বাসনের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেবে না সরকার। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার পরই নেওয়া হবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, আমাদের চোখের সামনেই এই বাজার গড়ে উঠেছে। এত বড় একটা ক্ষতি। অর্থনৈতিকভাবে ব্যবসায়ীরা যাতে আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারে, সেজন্য সহযোগিতা করব। ব্যাংকের মাধ্যমে নিয়মকানুন মেনে তারা যাতে ঋণ নিতে পারে সেজন্য যতটুকু সম্ভব সহযোগিতা করা হবে।
অন্যদিকে দোকান মালিক ও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের তালিকা তৈরির কাজ শুরু করেছে জেলা প্রশাসন।
আগুনের ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) লে. কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরীর সভাপতিত্বে ৫ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।