শরীয়তপুরে পুকুরে গোসলে নেমে ২ শিশুর মৃত্যু

শরীয়তপুরে পুকুরে ডুবে সরকারি শিশু পরিবারের (বালক) দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার দুপুরে শহরের ধানুকা এলাকায় শিশু পরিবারের পুকুরে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত শিশুরা হলো, সোহেল বয়াতি (১০) ও সাদিকুল ইসলাম (১১)। সোহেল ডামুড্যা উপজেলার চর গংগেসকাঠি গ্রামের আলী আহাম্মদ বয়াতীর ছেলে। আর সাদিকুল ঢাকা শহীদ মনু মিঞা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র ছিল। সে গোসাইরহাট উপজেলার মাঝেরচর গ্রামের মাহমুদুল হাসানের ছেলে।

এ ঘটনায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নিজাম উদ্দীন আহাম্মেদ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে আহ্বায়ক করে চার সদস্যের কমিটি গঠন করেছেন। কারও অবহেলায় শিশু দুটির মৃত্যু হয়ে থাকলে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জ্যোতি বিকাশ চন্দ্র।

সরকারি শিশু পরিবার জানায়, দুপুরে সোহেল ও সাদিকুল শিশু পরিবারের পুকুরে গোসল করতে যায়। সাঁতার না জানায় একপর্যায়ে তারা পানিতে ডুবে যায়। পরে শিশু পরিবারের শিশু, কর্তৃপক্ষ ও আশপাশের লোকজন পুকুরে খোঁজাখুঁজির পর তাদের উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানকার জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. মানছুরা ইসলাম বলেন, ‘মৃত অবস্থায়ই শিশু দুটিকে হাসপাতালে আনা হয়েছে।’

মৃত সাদিকুলের মামা জাহাঙ্গীর আলম ও সোহেলের ফুফাতো ভাই আব্দুস ছালাম জানান, পরিবারে তেমন কেউ না থাকায় সাদিকুল ও সোহেলকে  সরকারি শিশু পরিবারে ভর্তি করা হয়। 

শিশু পরিবারের (বালক) অ্যাসিস্টেন্ট সুপার আব্দুল মান্নান হাওলাদার বলেন, ‘শিশু দুটি কয়েকদিন আগে এখানে এসেছে। তারাতো সাঁতার জানে না। তারা কখন গোসল করতে গিয়েছে জানি না। পরে না পেয়ে খোঁজাখুজির পর দুই শিশুকে পুকুরের পানি থেকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নিয়ে যাই।’

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জ্যোতি বিকাশ চন্দ্র বলেন, ‘আমরা বিষয়টি তদন্ত করছি। কারও কোনো অবহেলা বা কোনো কারণে এই শিশু দুটির মৃত্যু হয়ে থাকলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

শরীয়তপুর সদরের পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘মৃত শিশুর দুই পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেয়েছি। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।’