পল্লীকবি খ্যাত কবি জসীমউদ্দীনের ১২১তম জন্মবার্ষিকী পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষ্যে কবির কবরে ফুলেল শ্রদ্ধা, দোয়া ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আজ সোমবার সকাল ৮টায় কবি জসীমউদ্দীনের পারিবারিক কবরস্থানের ডালিম গাছতলার কবির কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়ার আয়োজন করা হয়েছে।
পল্লীকবির জন্মদিন উপলক্ষে ফরিদপুর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শহরের অম্বিকাপুরে কবির বাসভবন প্রাঙ্গণে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ইয়াছিন কবির। এ সময় বক্তব্য রাখেন– জেলা প্রশাসক ও জসিম ফাউন্ডেশনের সভাপতি মো. কামরুল আহসান তালুকদার, পুলিশ সুপার মোর্শেদ আলম, ফরিদপুর প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক প্রফেসর শাহজাহান, কবির ছেলে জামাল আনোয়ারসহ প্রমুখ।
ফরিদপুরের জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রতিবছর কবির জন্মবার্ষিকীতে ‘জসীম পল্লীমেলা’ আয়োজন করা হয়। এ বছর এখনও ‘জসীম পল্লী’ মেলার দিনক্ষণ ঘোষণা করা হয়নি।
বাংলা কবিতার প্রাণপুরুষ কবি জসীমউদ্দীন ১৯০৪ সালে মতান্তরে ১৯০৩ সালে ফরিদপুরের সদর উপজেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুতালয়ে জন্মগ্রহণ করেন। কবির বাবা আনসারউদ্দিন মোল্যা একজন স্কুল শিক্ষক ছিলেন। মায়ের নাম আমিনা খাতুন।
কবি জসীমউদ্দীন একজন আধুনিক মানের শক্তিশালী কবি। তবে গ্রাম-বাংলার মাটি ও মানুষের সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনাকে কেন্দ্র করে দরদি কবিতা, ছড়া, গীতিকবিতা ও উপন্যাসসহ সাহিত্য রচনা করায় তাঁকে পল্লীকবি বলা হয়।
সাহিত্যবিশারদদের মতে, ‘পল্লীকবি’ উপাধিতে ভূষিত জসীমউদ্দীন আবহমান বাংলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে লালিত প্রথম পূর্ণাঙ্গ আধুনিক কবি। ঐতিহ্যবাহী বাংলা কবিতার মূল ধারাটিকে নগরসভায় নিয়ে আসার কৃতিত্ব জসীমউদ্দীনের। তাঁর ‘নকশী কাঁথার মাঠ’ ও ‘সোজন বাদিয়ার ঘাট’ বাংলা ভাষার গীতিময় কবিতার উৎকৃষ্টতম নিদর্শনগুলোর অন্যতম। তাঁর কবিতা বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে।