রাজধানীর মোহাম্মদপুরের শাহজাহান রোডের একটি বাড়ির নিচ থেকে প্রীতি (১৩) নামে এক গৃহকর্মীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ওই বাসার গৃহকর্ত্রী ও গৃহকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়েছে মোহাম্মদপুর থানা–পুলিশ।
জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া ওই গৃহকর্তার নাম আশফাকুল হক। তিনি ডেইলি স্টার পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক। গত বছরেও গৃহকর্মী নির্যাতনের অভিযোগে তাঁর নামে মোহাম্মদপুর থানায় মামলা হয়েছিল।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রীতির গ্রামের বাড়ি মৌলভীবাজারে। কয়েক মাস আগে মোহাম্মদপুরের শাহজাহান রোডের ২/৭ নম্বর বাসায় কাজ করতে এসেছিলেন সে। ওই বাড়ির ৯ তলায় বারান্দার রেলিংয়ের সঙ্গে ঝুলছিল প্রীতির দেহ। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, বারবার বলার পরও বাড়িটির দরজা খোলেনি দারোয়ান। একপর্যায়ে নিচে পরে যায় ওই কিশোরী।
এদিকে খবর পেয়ে প্রীতির মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায় পুলিশ। ঘটনার পর সকালেই আশফাকুল হক ও তাঁর স্ত্রীসহ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।
স্থানীয়রা বলছেন, এর আগেও এই বাসায় একই ঘটনা ঘটেছিল।
মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহফুজুল হক ভুইয়া বলেন, ‘এ ঘটনায় আশফাকুল হক ও তাঁর স্ত্রীসহ কয়েকজনকে থানায় নেওয়া হয়েছে। আশফাকুল হক দাবি করেছেন, তাঁর গৃহকর্মী বাসা থেকে পড়ে গিয়ে মারা গেছেন। তবে আমরা বিষয়টি দেখছি এবং তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করছি।’
ওসি আরও বলেন, ‘আশফাকুলের দাবি, তারা ওই সময় ঘুমিয়েছিলেন। পরে ঘুম থেকে উঠে জানতে পারেন প্রীতি বাসার নিচে পড়ে আছে।’
উল্লেখ্য, এর আগে গত ৫ আগস্ট সাংবাদিক সৈয়দ আশফাকুল হকের এই বাসা থেকেই ফেরদৌসী নামে এক গৃহকর্মীকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করেছিল পুলিশ। তখনও আশফাকুলের নামে মামলা হয়েছিল।