ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টারের নির্বাহী সম্পাদক সৈয়দ আশফাকুল হকের বাসায় প্রীতি উরাং নামে একজন শিশু গৃহকর্মীর মৃত্যু নিয়ে দেওয়া সম্পাদক মাহফুজ আনামের বিবৃতিতে হতাশা ব্যক্ত করেছে ‘নিপীড়নের বিরুদ্ধে শাহবাগ’ নামে একটি সংগঠন। রোববার প্রকাশিত এক খোলা চিঠিতে তারা এই হতাশা প্রকাশ করে।
ঘটনার ১০ দিন পর হলেও এই বিবৃতি প্রশংসনীয় উল্লেখ করে খোলা চিঠিতে তারা বেশকিছু প্রশ্ন তুলেছে। এ ছাড়া ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় পত্রিকাটি ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে সংগঠনটি।
খোলা চিঠিতে দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনামের উদ্দেশ্যে বলা হয়, ‘আপনি প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষায় আছেন, উল্লেখ করেছেন। অথচ একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে পরপর একই ধরনের দুটি অভিযোগ উঠে এসেছে, যা আপনি অনুধাবনে ব্যর্থ হয়েছেন। অভিযোগটি বিচারাধীন থাকার পরও আপনি তা বিবৃতিতে উল্লেখ করেননি। এমনকি আপনার পত্রিকার পক্ষ থেকে অন্যান্য ঘটনার মতো এই ২টি ঘটনায় সরেজমিন অনুসন্ধান করে বিশ্লেষণধর্মী ও তুলনামূলক আলোচনার প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি, যা পত্রিকার পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ।’
হতাশ হওয়ার পেছনে আরও কিছু যুক্তি দেয় ‘নিপীড়নের বিরুদ্ধে শাহবাগ’। এ ছাড়া তারা দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনামকে কিছু প্রশ্নও করে।
খোলা চিঠিতে মাহফুজ আনামকে প্রশ্ন করা হয়, ‘আপনার প্রতিষ্ঠান কি শিশু শ্রমিক রাখার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে? হত্যার মতো গুরুতর অভিযোগ এবং জেলখানায় বন্দি আসামিকে সাময়িক বরখাস্ত না করা কি গণমাধ্যমের নৈতিকতা ও মূল্যবোধগত বিষয়? ব্যক্তির অপরাধের দায় কি দ্য ডেইলি স্টার-এর? শিশু প্রীতি ও ফেরদৌসীর সঙ্গে কি ন্যায়বিচার হয়েছে? কেন বারবার একই বাড়িতে এমন ঘটনা ঘটছে— বিষয়টি কি একটি দায়িত্বশীল গণমাধ্যম হিসেবে আপনি বিবেচনায় নিয়েছেন?’
নিপীড়নের বিরুদ্ধে শাহবাগের খোলা চিঠিতে আরও বলা হয়, ‘আমরা বিশ্বাস করি, দ্য ডেইলি স্টারও একই প্রশ্নের মধ্যেই ঘুরপাক খাচ্ছে। কিন্তু উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবেই সেগুলোকে আলোচনায় তুলতে চাইছে না।’
খোলা চিঠিতে জানানো হয়, উন্নত জীবন পেতে শিশু প্রীতিদের গৃহকর্মীর কাজে ঢাকায় আসাকে তারা সমর্থন করে না। পাশাপাশি তারা আহ্বান জানায়, অবিলম্বে পত্রিকাটি আশফাকুল হককে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি প্রদান এবং প্রীতি উরাং ও ফেরদৌসি বেগমের পরিবারকে ন্যায়বিচার প্রাপ্তিতে সহায়তা করবে।
গত ৬ ফেব্রুয়ারি মোহাম্মদপুরের শাহজাহান রোডের একটি বাড়ির নিচ থেকে প্রীতির রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সেদিনই ডেইলি স্টারের নির্বাহী সম্পাদক সৈয়দ আশফাকুল হক ও তাঁর স্ত্রী তানিয়া খন্দকারকে আটক করে পুলিশ।
প্রীতি উরাংয়ের মৃত্যুর ঘটনায় নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন পত্রিকাটির সম্পাদক ও প্রকাশক মাহফুজ আনাম। তাঁর ব্যাখ্যাটি গত শুক্রবার ডেইলি স্টারের প্রিন্ট এবং ইংরেজি ও বাংলা অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে।