পরিবারের চাহিদা মেটাতে কাচ্চি ভাইয়ে কাজ নিয়েছিলেন জিহাদ

রাজধানী ঢাকার বেইলি রোডের বহুতল ভবনে হওয়া অগ্নিকাণ্ডে নিহত হয়েছেন কাচ্চিন ভাই বেইলি রোড শাখার কর্মী জিহাদ শিকদার (১৯)। অসচ্ছল পরিবারের আর্থিক চাহিদা মেটাতেই এ কাজে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু বৃহস্পতিবারের আগুন সব ওলট–পালট করে দিল। একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে এখন শোক ও ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তায় এক অথৈ সাগরে পড়েছে তাঁর পরিবার।

জিহাদ শিকদারের গ্রামের বাড়ি মাদারীপুরের কালকিনিতে। শুক্রবার দুপুরে নিহতের মরদেহ কালকিনির কয়ারিয়া ইউনিয়নের আলিমাবাদে নেওয়া হলে কান্নায় ভেঙে পড়েন জিহাদের স্বজনেরা। তিনি আলিমাবাদ গ্রামের জাকির শিকদারের ছেলে।

জিহাদের স্বজনেরা জানান, পরিবারের হাল ধরতে তিন বছর আগে রাজধানী ঢাকার বেইলি রোডের কাচ্চি ভাই রেস্তোরাঁয় শ্রমিক হিসেবে যোগ দেন জিহাদ। তাঁর উপার্জনেই চলত গ্রামে থাকা পরিবারের যাবতীয় খরচ। জিহাদের অকাল মৃত্যুতে এলাকাজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। তাঁর অসহায় পরিবারটির পাশে দাঁড়াতে সরকারি সহযোগিতা কামনা করেছেন স্বজন ও এলাকাবাসী।

জিহাদের ছোটভাই রিয়াদ ইনডিপেনডেন্টকে জানান, মাদারীপুরের কালকিনির সাহেববারপুর কবি নজরুল ইসলাম ডিগ্রি কলেজে মানবিক বিভাগের দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়ালেখা করতেন জিহাদ। জিহাদের সংসারে মা-বাবা ও এক ভাই রয়েছে। বড়বোনের বিয়ে হওয়ায়ায় তিনি অন্যত্র থাকেন।

কালকিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উত্তম কুমার দাশ বলেন, ‘জিহাদের মৃত্যুতে সমবেদনা জানানোর ভাষা নেই। তাঁর পরিবার থেকে কোন সহযোগিতা চাওয়া হলে সবসময় পাশে থাকবে প্রশাসন।

প্রসঙ্গত, গতকাল বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১০টার দিকে রাজধানীর বেইলি রোডের গ্রিন কোজি কটেজ নামের এক বহুতল ভবনে আগুন লাগে। ওই ভবনেই ছিল কাচ্চি ভাই রেস্তোরাঁ, যেখানে কাজ করতেন জিহাদ। ২ ঘণ্টার চেষ্টায় রাত ১২টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে ফায়ার সার্ভিস। এ ঘটনায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত নিহত হয়েছে ৪৬ জন।