ভারত মহাসাগরে সোমালিয়ান জলদস্যুদের হাতে বন্দি তারেকুল ইসলামের গ্রামের বাড়িতে চলছে আহাজারি। সন্তানকে ফিরে পেতে কান্নাকাটি করছেন তার স্বজনরা।
বুধবার দুপুরে তাঁর গ্রামের বাড়ি ফরিদপুরের মধুখালীর রায়পুর ইউনিয়নের ছকড়িকান্দি গ্রামের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, তারেকুলের বাড়িতে ভিড় করছেন আত্মীয়-স্বজন সহ প্রতিবেশীরা। তারেকুলের পিতা দেলোয়ার হোসেন কোরআন তেলাওয়াত করছেন। সাংবাদিকদের দেখে পরিবার পক্ষ থেকে সন্তানকে ফিরে পাওয়ার জন্য সকলের সহায়তা কামনা করা হয়। একইসাথে সরকার যাতে ওই জাহাজের সকলকেই জীবিত উদ্ধার করতে পারে সেই আর্তি জানান তারা।
তার মা হাসিনা বেগম জানালেন, তারেকুল খু্বই নম্র এবং ভদ্র একটি ছেলে ছিলো। এমন একটি সোনার ছেলের এমন দুর্দশার খবরে বারবার হু হু করে কেঁদে উঠছেন তার মা। ছেলের ছবি দেখে কান্না করছেন আর তাদের ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের কাছে বার্তা পৌছে দেয়ার অনুরোধ করছেন।
অবসরপ্রাপ্ত চাকুরিজীবী মো. দেলোয়ার হোসেনের দুই ছেলে একমেয়ের মধ্যে সবার ছোট মো. তারেকুল ইসলাম। স্থানীয় প্রাইমারি স্কুল থেকে পাশ করে চলে যান ঢাকায়। সেখানে মিরপুরের ড. মো. শহীদুল্লাহ্ কলেজিয়েট স্কুল থেকে এসএসসি ও এইচএসসি পাশ করেন।
২০১২ সালে ভর্তি হন চট্টগ্রাম মেরিন একাডেমিতে। ২০১৪ সালে নটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করে চাকরিতে যোগ দেন। সর্বশেষ গত বছরের ডিসেম্বরে নতুন করে যোগ দিয়েছিলেন ভারত মহাসাগরে সোমালিয়ার জলদস্যুদের কবলে পড়া গোল্ডেন হক নামে বাংলাদেশি জাহাজ পরিচিত এমভি আবদুল্লাহর থার্ড অফিসার হিসেবে। অপহরণের শিকার ২৩ নাবিকের মধ্যে ফরিদপুরের সন্তান তারেকুলও রয়েছেন। বাংলাদেশি জাহাজ এমভি আব্দুল্লাহর থার্ড অফিসার তিনি।
২০১৯ সালের ২৫ ডিসেম্বরে বিয়ে করেন নাটোরের মেয়ে তৎকালীন মেডিক্যালের ছাত্রী মোসাম্মৎ তানজিয়া। বিবাহিত তারেকুল-তানজিয়া দম্পতির এক বছর এক মাস বয়সী একটি মেয়ে আছে।
প্রতিবেশী-আত্মীয় স্বজনদের একটাই আকুতি, যেকোন মূল্যে তারা তাদের প্রিয় তারেকুলকে ফেরত চান।