গুলিস্তান থেকে সদরঘাট, আড়াই কিলোমিটার রাস্তা যেতে ২ ঘণ্টা

গুলিস্তান থেকে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল, মাত্র আড়াই কিলোমিটার রাস্তা। কিন্তু বাসে বা রিকশায় যেতে সময় লাগে অন্তত দুই ঘণ্টা। কারণ মূল সড়কের অর্ধেকটাই দখল করে রেখেছে ব্যবসায়ীরা। আরেক সংকটের কারণ ফুলবাড়িয়া বাসস্ট্যান্ডের বিশৃঙ্খলা। আশঙ্কা করা হচ্ছে, লঞ্চে ঈদযাত্রায় এই সড়কে এবারও চরম দুর্ভোগ পোহাতে হবে।

পদ্মা সেতু চালুর পর সদরঘাটের চাহিদা নেই বললেই চলে। তারপরও ঈদের সময় দক্ষিণের পথে লঞ্চে চাপ বাড়ে। কিন্তু সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে পৌঁছানো রীতিমতো যুদ্ধের ব্যাপার। কারণ গুলিস্তান থেকে শুরু হয় যানজট। গুলিস্তান থেকে সদরঘাট পর্যন্ত দুপাশের ফুটপাত হকারদের দখলে। মূল সড়কের অনেকটা অংশ দখল করে রেখেছে ব্যবসায়ীরা। আর যত্রতত্র পার্কিং তো রয়েছেই।

ওই রাস্তায় চলাচলকারী এক বাসচালক জানান, পাঁচ থেকে ছয় মিনিটের রাস্তা যানজটের কারণে পার হতে সময় লাগে দুই থেকে তিন ঘণ্টা।

এমকে শিপিং লাইন্সের পরিচালক রাসেল খান জানান, ভিক্টোরিয়া পার্কের পাশে অন্তত ১০টি বাস দাঁড়িয়ে থাকে। ওখান থেকে কিছুক্ষণ পরপর একটি একটি করে বাস ছাড়ে। ওই বাসগুলো ওখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হলে সদরঘাটের যানজট অনেকটা কমে যাবে।  

ট্রাফিক পুলিশ বলছে, গুলিস্তানে বেশকিছু পাইকারি মার্কেট ও ফুলবাড়িয়া বাসস্ট্যান্ডের কারণে যানজট তৈরি হয়।

লালবাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার(ট্রাফিক) রাজিব গাইন জানান, ফুটপাত দখলমুক্ত করতে সর্বদা তৎপর রয়েছেন তাঁরা। দখলমুক্ত ফুটপাত নির্বিঘ্নে রাস্তায় যান চলাচলে সহায়ক হবে।

ঈদের সময় সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে যাওয়ার পথ যানজট ও হকারমুক্ত রাখার তাগিদ দিয়েছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। সংস্থাটির পরিচালক মো. জয়নাল আবেদীন জানান, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে এবার চারটি মনিটর বসানো হবে। এর মাধ্যমে কোন লঞ্চ কখন ঘাটে আসবে, কখন ছেড়ে যাবে এবং কোথায় অবস্থান করছে তা জানা যাবে।

বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, ঈদের সময় এ সড়কে রিকশা চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। বাহাদুর শাহ পার্ক এলাকার বাসগুলো জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে রাখা যেতে পারে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মো. হাদিউজ্জামান জানান, এ রাস্তার দুই পাশে অযান্ত্রিক বা ধীরগতির যানবাহন যত্রতত্র পার্ক করে রাখা হচ্ছে। অবৈধভাবে পার্ক করা এসব যানবাহন সরানো গেলে সমস্যা অনেকাংশে কমে যাবে।

ঈদের সময় সদরঘাট থেকে প্রতি দিন ঢাকা ছাড়ে লক্ষাধিক মানুষ।