ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে বুধবার প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয়ে ঢুকে ভেটেরিনারি সার্জন (ভিএস) ডা. আব্দুল আলিমকে মারধর ও ভাংচুরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার পর অভিযুক্ত যুবকের বাবাকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
অবশ্য ভ্রাম্যমাণ আদালত বলেছেন, অনুমতি ছাড়া পশুর চিকিৎসা দেওয়ায় এ কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আর ভিএস জানিয়েছেন, মারধর ও ভাংচুরের ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।
অভিযোগ, আজ দুপুর ১টার দিকে পৌর সদরের দক্ষিণ কামারগ্রামের হরেন্দ্রনাথ বিশ্বাসের ছেলে তরুণ বিশ্বাস (৩৫) ও একই এলাকার তুষার হোসেন (৩৫) আকষ্মিকভাবে অফিসে ঢুকে ডা. আব্দুল আলিমকে মারধর ও টেবিলের গ্লাস ভাংচুর করে বের হয়ে যায়। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মেহেদী হাসান ও থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মজিবুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। এ সময় পশু চিকিৎসক (কক) হরেন্দ্রনাথ বিশ্বাস প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ে গেলে তাঁকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। ইউএনও ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রে মো. মেহেদী হাসান ২০১৯ সালের ভ্যাটেনারি কাউন্সিল আইনের ৩৫ধারায় এ দণ্ড দেন।
ভেটেনারি সার্জন (ভিএস) ডা. আব্দুল আলিম বলেন, ‘একজন কৃষকের গাভীর অলান (দুধ) ফুলে গেলে গাভী নিয়ে আমার কাছে আসে। কৃষক জানায়, প্রাথমিক অবস্থায় হরেন্দ্রনাথ বিশ্বাসকে দেখালে তিনি বিভিন্ন ওষুধ দিয়ে ছয় হাজার টাকা নেন। কিন্তু ফোলা না কমে আরও বেড়ে গেছে। আমি কৃষককে জানাই আপনার ওই চিকিৎসা সঠিক হয়নি। আপনি নতুন করে ওষুধ খাওয়ান। এরপর ওই কৃষক ভুল চিকিৎসা দিয়ে ছয় হাজার টাকা নেওয়ার বিষয়ে হরেন্দ্রনাথকে গিয়ে ধরেছে। এরপর হরেন্দ্রনাথের ছেলে অফিসে ঢুকে এ কাণ্ড ঘটায়।’
এ বিষয়ে ডা. আব্দুল আলিম থানায় মামলা করবেন বলে জানিয়েছেন।
তবে তরুণ বিশ্বাস মারধর ও ভাংচুরের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমার বাবাকে ডা. আব্দুল আলিম গালিগালাজ করেছেন। এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করতে অফিসে গিয়েছিলাম। কোনো ধরনের মারধর বা ভাংচুরের ঘটনা ঘটেনি। আমার বাবাকে এক মাসের সাজা দিয়েছে বলে শুনেছি। তাঁরা আর কী কী করবে তা গয়েবের মালিক জানেন।’
বোয়ালমারী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মজিবর রহমান বলেন, ‘মারধর ও ভাংচুরের খবর পেয়ে প্রাণিসম্পদ হাসপাতালে গিয়েছিলাম। সেখানে নমুনা পেয়েছি। লিখিত অভিযোগ পেলেই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
উপজেলা নির্বাহী কমকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মেহেদী হাসান বলেন, ‘হরেন্দ্রনাথ বিশ্বাস এক সময় প্রাণিসম্পদ হাসপাতালে চাকরি করতেন। অবসরে গিয়ে তিনি পশুর চিকিৎসা দেওয়া শুরু করেন। কিন্তু তার কোনো অনুমতি নেই। বিনা অনুমতিতে অপচিকিৎসা দেওয়ার অপরাধে ভ্যাটেনারি কাউন্সিলের আইন অনুযায়ী তাঁকে সাজা দেওয়া হয়েছে। অন্য বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’