সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাম্প্রদায়িক বক্তব্য দিয়েছেন বলে অভিযোগ চেয়ারম্যান প্রার্থীর 

সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও মানিকগঞ্জ-৩ (সদর ও সাটুরিয়া) আসনের সংসদ সদস্য জাহিদ মালেকের বিরুদ্ধে সদর উপজেলা নির্বাচনে তাঁর ফুপাতো ভাইয়ের পক্ষ নিয়ে সাম্প্রদায়িক বক্তব্য এবং দলীয় নেতাদের বহিষ্কারের হুমকিসহ বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার দুপুরে মানিকগঞ্জ প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করে সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের চেয়ারম্যান প্রার্থী ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সুদেব সাহা এসব অভিযোগ করেন।

বিষয়টি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ দলীয় সিনিয়র নেতাদের অবগত করা হয়েছে।

লিখিত বক্তব্য ও বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে সুদেব সাহা বলেন, ‘আওয়ামী লীগের দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সংসদ সদস্যরা কোনো প্রার্থীর পক্ষে সরাসরি কাজ করতে পারবেন না। কিন্তু জাহিদ মালেক এই সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে আপন ফুপাত ভাই মো. ইসরাফিল হোসেনের পক্ষে বিভিন্ন ফোরামে ভোট চাইছেন। ইসরাফিলের পক্ষে কাজ না করলে দলের পদধারীদের পদ থাকবে না বলে হুমকি দিচ্ছেন। ফলে নেতাকর্মীদের স্বাধীনতা খর্ব হচ্ছে।’ 

সুদেব সাহা আরও বলেন, ‘জাহিদ মালেক একইভাবে সংসদ সদস্য হিসেবে প্রভাব খাটিয়ে ইউনিয়ন পর্যায়ে সাবেক ও বর্তমান জনপ্রতিনিধিদের ইসরাফিলের পক্ষে কাজ করতে চাপ সৃষ্টি করছেন। এমনকি তাঁদের দিয়ে শপথ করিয়ে নিচ্ছেন, যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।’ 

লিখিত বক্তব্যে সুদেব সাহা দাবি করেন, ‘গতকাল সোমবার সংসদ সদস্য জাহিদ মালেক সদর উপজেলার ইমাম, মোয়াজ্জেম ও মাদরাসার শিক্ষকদের ডেকে এক সভা করেন। সেই সভায় তিনি নির্বাচনকে ঘিরে সাম্প্রদায়িক বক্তব্য তুলে ধরেন।’

এক প্রশ্নের উত্তরে সুদেব সাহা বলেন, ‘পার্শ্ববর্তী বন্ধুপ্রতিম দেশ ভারতে মুসলমানরা সাম্প্রদায়িকতার শিকার হচ্ছে বলে সংসদ সদস্য উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্যে ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্ট ও সংখ্যালঘুদের মধ্যে অনাস্থার সৃষ্টি হচ্ছে।’

সুদেব সাহা বলেন, ‘নির্বাচনে যেসকল মাদ্রাসা শিক্ষক দায়িত্ব পালন করবে তাঁদের ইসরাফিলের পক্ষে কাজ করার জন্য সংসদ সদস্য নানাভাবে চাপ দিচ্ছেন। যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।’

এই প্রার্থী আরও বলেন, ‘সম্প্রতি সদর উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নে আয়োজিত এক সভায় সরকারি প্রকৌশলীদের সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন প্রকল্প পাওয়ার আশ্বাস দিয়ে জাহিদ মালেক আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন।’

সুদেব বলেন, ‘নির্বাচনকে সামনে রেখে ব্যক্তিগত আক্রোশমূলক কথা বলা একজন সংসদ সদস্যর মুখে মানায় কিনা এই প্রশ্ন সদর উপজেলাবাসীর কাছে। নির্বাচন থেকে আমাকে সরে যেতে চাপ না দিলেও সদর উপজেলায় নির্বাচন না করে পৌরসভা নির্বাচন করতে অনুরোধ করা হয়েছিল।’

সুদেব সাহা আরও বলেন, ‘আমি জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলাম। জেলা যুবলীগের সভাপতি ছিলাম, আওয়ামী লীগের দুইবারের সাংগঠনিক সম্পাদক, জেলা চেম্বার অব কমার্সের তিনবারের প্রেসিডেন্ট, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক এবং মানিকগঞ্জ পৌরসভার দুইবারের ভারপ্রাপ্ত মেয়র ছিলাম। আমার রাজনৈতিক জীবনে এতগুলো পদ–পদবী থাকা সত্ত্বেও আমার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য হয়ে কীভাবে সাম্প্রদায়িক কথা বলেন।’

সাবেক মন্ত্রী জাহিদ মালেকের বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘন করার লিখিত অভিযোগ প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানান সুদেব সাহা। শিগগিরই তা জেলা রিটানিং কর্মকর্তারা বরাবর পাঠানো হবে বলে জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী সেচ্ছাসেবকলীগ নেতা মাহমুদ রাজা অপু, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মহিদুজ্জামান মহিদ, জেলা ক্রীড়া সংস্থার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সেলিম পারভেজ, পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর হামিদুর রহমান কাজল, যুবলীগ নেতা সামিউল আলীম রনিসহ দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকরা উপস্থিত ছিল।