সারাদেশে চিকিৎসকদের ওপর ক্রমাগত হামলা ও নিপীড়নের প্রতিবাদে রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে মানববন্ধন এবং সংবাদ সম্মেলন করেছে বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ফোরাম। আজ শনিবার বেলা সাড়ে ১২টায় হাসপাতাল প্রাঙ্গণে এই প্রতিবাদী কর্মসূচি হয়।
আয়োজক সংগঠনটির পক্ষ থেকে ঢামেক হাসপাতাল প্রাঙ্গণে এই কর্মসূচির মাধ্যমে চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে প্রধান ৩টি দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলো হলো– ১. চিকিৎসকদের ওপর হামলা ও নিপীড়নের ঘটনায় দ্রুত এবং দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করতে হবে। ২. চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের কর্মকালীন নিরাপত্তায় একটি কার্যকর 'জাতীয় নীতিমালা' প্রণয়ন করতে হবে। ৩. দেশের সকল হাসপাতালকে চিকিৎসকদের জন্য নিরাপদ কর্মস্থলে পরিণত করতে হবে।
প্রতিবাদ কর্মসূচিতে বক্তব্যে বিএনপির কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ডা. রফিকুল ইসলাম বলেন, আপনারা জানেন দেশের বিভিন্ন দুর্যোগে, এই ডাক্তাররাই জনগণের পাশে থেকেছে দুর্যোগকে মোকাবিলা করেছে। বিনা কারণে, বিনা স্বার্থে তারাই কিন্তু তাদের সেবা দিয়ে গেছে সবসময়। কিন্তু সেই ডাক্তাররাই আবার জনগণের মুখোমুখি হয়েছে বারবার। বিগত সরকারের আমলে হাসপাতালগুলোতে যে হরিলুট চলেছে তার জন্য হাসপাতালগুলোতে কিন্তু চিকিৎসার বিভিন্ন সামগ্রীর অনেক সংকট দেখা দিয়েছে। তার জন্য চিকিৎসা কার্যক্রম হয়তো অনেক ব্যাহত হয়েছে।
অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম আরও বলেন, একটি গোষ্ঠী বা একটি মহল ডাক্তারদের ওপরে পরিকল্পনা করে হামলা চালাচ্ছে।
প্রতিবাদ কর্মসূচিতে আরও বক্তব্য রাখেন, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ–ড্যাবের কেন্দ্রীয় মহাসচিব অধ্যাপক ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিল। তিনি বলেন, আমাদের সরকার জনবান্ধব সরকার। এই সরকারকে বিপদে ফেলার জন্য একটি চক্র একটি মহল ইচ্ছাকৃতভাবে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত কাজগুলো করছে। আমাদের স্বাস্থ্যব্যবস্থা যেন অন্য দেশের হাতে চলে যায় সেই চক্রান্তই চলছে বর্তমানে। একজন চিকিৎসক কখনোই চায় না একজন রোগীর ক্ষতি হোক। একজন চিকিৎসক সবসময় সর্বোচ্চ চিকিৎসা দেওয়ারই চেষ্টা করে একজন রোগীকে।
অধ্যাপক মো. জহিরুল ইসলাম আরও বলেন, দুঃখ লাগে যে এখনো আমাদেরকে রাস্তায় নামতে হয়। তবে এর পরে কোনো ডাক্তারের কিছু হলে আমরা কিন্তু আর বসে থাকব না। আমি স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে বলতে চাই আপনারা আমাদের অভিভাবক আমাদের ওপরে যেন এরকম জুলুম–নির্যাতন আর না হয় খুব দ্রুত সেই ব্যবস্থা নেন।
প্রতিবাদ কর্মসূচিতে সংগঠনের নেতারা বলেন, আমরা রাস্তায় চলাচল করি– আমাদের নিরাপত্তা কোথায়? আজকে একজনের সঙ্গে হচ্ছে, কালকে আরেকজনের সঙ্গে হবে। আমাদের সঙ্গেও এরকম ঘটনা হতে পারে। আমরা চাই না এমন ঘটনা আর ঘটুক। আমরা আমাদের নিরাপত্তা চাই।



