গাজীপুরের কাপাসিয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালত ও সরকারি কাজে বাধা, পুলিশ সদস্যকে পিটিয়ে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় মামলার পর আজ বৃহস্পতিবার ভোররাতে ইউপি চেয়ারম্যানসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, উপজেলার উজলী দিঘিরপাড় গ্রামের মোহর আলী ব্যাপারীর ছেলে এমএ জলিল (৬৫) ও একই গ্রামের আব্দুস ছোবহানের ছেলে ফাইজ উদ্দিন (৫৫)। এমএ জলিল কাপাসিয়ার টোক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বুধবার বিকেলে কাপাসিয়ার উজলী দিঘিরপাড় বাজারে ইজারা না নিয়ে ঢাকা-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের পাশে গরুর হাট বসানো হয়। এতে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবুল কালাম মো. লুৎফর রহমান ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। এ সময় ওই হাটের ইজারাদারকে হাট সরিয়ে নিতে বলেন ইউএনও। এ সময় ইউপি চেয়ারম্যানের ভাই আব্দুল জব্বারের ছেলে বাজার ইজারাদার আমান উল্লাহকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে এক মাসের কারাদণ্ড দেন। পরে পুলিশ তাঁকে হেফাজতে নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে চলে আসতে চাইলে ইউপি চেয়ারম্যান এমএ জলিলের নেতৃত্বে স্থানীয়রা পুলিশের কাছ থেকে আমান উল্লাহকে ছিনিয়ে নেন এবং পুলিশকে মারধর করেন।
এ ঘটনার পর বুধবার রাতে ইউএনও ও পুলিশ কনস্টেবলকে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় টোক তদন্ত কেন্দ্রের এ এসআই লুৎফুল রহমান বাদী হয়ে ইউপি চেয়ারম্যানসহ ২৩ জনের নামে মামলা করেন। আজ বৃহস্পতিবার ভোরে দায়ের হওয়া সেই মামলায় ইউপি চেয়ারম্যান এমএ জলিলসহ ফাইজ উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ বিষয়ে কাপাসিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইএনও) একেএম লুৎফর রহমান বলেন, ‘ভ্রাম্যমাণ আদালতের কাজে বাধা এবং আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছে। ওই ঘটনায় জলিল চেয়ারম্যানকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।’
কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বকর সিদ্দিক বলেন, ‘বুধবার কাপাসিয়ার উজলী দিঘিরপাড় বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করতে গিয়েছিলেন ইউএনও একেএম লুৎফর রহমান। সেখানে এক আসামিকে সাজা দেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক। সেই সাজাপ্রাপ্ত আসামি নিয়ে ফেরার সময় সেখানে ওই আসামিরাসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজন তাঁদের মারধর করে, সরকারি কাজে বাধা দিয়েছে। পরে আসামি ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পরে পুলিশ বাদী হয়ে কাপাসিয়া থানায় মামলা দায়ের করলে চেয়ারম্যানসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।’