সালথায় অধ্যক্ষকে হাতুড়িপেটা করে পদত্যাগে বাধ্য করানোর ঘটনায় মামলা

ফরিদপুরের সালথা উপজেলার যদুনন্দী নবকাম পল্লী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অধ্যক্ষ মো. ওবায়দুর রহমানকে হাতুড়িপেটা করে পদত্যাগপত্রে সই নেওয়ার ঘটনায় স্থানীয় প্রভাবশালী কয়েকজনের নামে মামলা হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত (ওসি) মোহাম্মাদ ফায়েজুর রহমান মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। 

এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে ভুক্তভোগী অধ্যক্ষ ওবায়দুর বাদী হয়ে সালথা থানায় মামলাটি করেন। এতে প্রধান আসামি করা হয়েছে কলেজের পাশের বাসিন্দা যদুনন্দী এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তি মো. কাইয়ুম মোল্যাকে। এছাড়া কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সদস্য কামরুল গাজী, যদুনন্দী গ্রামের লালন বিশ্বাস, মনির হোসেন, লোকমান বিশ্বাস, বুলু, জিয়া, আমীর আলী, রাজীব গাজী, শাহীদ ভূইয়াসহ অজ্ঞাতনামা ২-৩ জনকে আসামি করা হয়েছে। তবে এ মামলায় কোনো শিক্ষার্থীকে আসামি করা হয়নি।

মামলার বাদী অধ্যক্ষ মো. ওবায়দুর রহমান বলেন, ‘বৃহস্পতিবার সকালে নবকাম পল্লী কলেজের কোয়াটার হতে কলেজে বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নির্মল কুমার বিশ্বাসের মোটরসাইকেল করে আমি ও আমার বড় ছেলে আব্দুর রহমান কলেজে আসার পথে কলেজ গেটের দক্ষিণ পাশে পাকা রাস্তার ওপর পৌঁছাইলে কাইয়ুম মোল্যা ও কামরুল গাজীর নেতৃত্বে বহিরাগত কিছু সন্ত্রাসীরা আমাদের গতিরোধ করে। তখন কামরুল গাজী আমার কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। আমি চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে কাইয়ুম মোল্যা ও কামরুল গাজীর নেতৃত্ব হাতুড়িপেটা করে আমার কাছ থেকে পদত্যাগপত্রে সই নেয় কিছু বহিরাগত সন্ত্রাসী। আমি ইচ্ছা করে পদত্যাগপত্রে সই করিনি। তাই আমি আইনের আশ্রয় নিতে তাদের নামে মামলা করেছি। আশা করি ন্যায়বিচার পাব।’

মামলার প্রধান আসামি কাইয়ুম মোল্যা বলেন, ‘অধ্যক্ষ ওবায়দুর রহমান কলেজে যোগদানের পর থেকে দুর্নীতি-অনিয়ম করে আসছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় পুলিশ দিয়ে আমাদের শিক্ষার্থীদের নানাভাবে হয়রানি করেছেন অধ্যক্ষ ওবায়দুর রহমান। যে কারণে তার পদত্যাগের জন্য শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করেছে, মানববন্ধন করেছে। অবশেষে বৃহস্পতিবার শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে তিনি নিজের ইচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন। এখানে আমি কোনোভাবেই জড়িত নই। আর আমি ঘটনার সময় এলাকাতেও ছিলাম না।’

চাঁদা দাবির অভিযোগ অস্বীকার করে কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সদস্য কামরুল গাজী বলেন, ‘গতকাল অধ্যক্ষ পদত্যাগ করার সময় আমি ফরিদপুর অফিসে ছিলাম। আমি তো এসব বিষয় কিছুই জানতাম না। অধ্যক্ষ শুধু শুধু আমার নামে মিথ্যা মামলা দিয়েছে।’

মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে সালথা থানার ওসি মোহাম্মাদ ফায়েজুর রহমান বলেন, ‘অধ্যক্ষ ওবায়দুর রহমানের ওপর হামলার ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। মামলাটি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’