রাজধানীর বসুন্ধরার একটি বাসায় নির্যাতনের শিকার গৃহকর্মীর চিকিৎসার খোঁজ নিতে ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে আসেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক কামাল উদ্দিন আহমেদ। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) বার্ন ইউনিটের অবজারভেশন কক্ষের ৫ নং ওয়ার্ডে আসেন তিনি।
এসময় সাংবাদিকদের মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘কিশোরী গৃহকর্মীকে যেভাবে নির্যাতন করা হয়েছে একজন সুস্থ মানুষ এভাবে নির্যাতন করতে পারে না। আমাদের দেশে প্রায় পাঁচ লাখের মতো শিশু রয়েছে যারা দেশের বিভিন্ন জায়গায় বা পরিবারে শ্রমিকের কাজ করছে। আমরা শুনে আশ্চর্য হয়েছি গত সাড়ে চার বছর যাবৎ এই শিশুটি নির্যাতিত হয়েছে। এটা আমাদের দেশের জন্য দুর্ভাগ্যজনক। আমরা অবশ্যই এই শিশুশ্রম বন্ধ করা উচিত বলে মনে করি। এ বিষয়ে আমরা একটা আইন প্রণয়নের খসড়া প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি।’
অধ্যাপক কামাল উদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, ‘নির্যাতিত শিশুটির বয়স মাত্র ১৩ বছর। যদিও ১৪ বছর বয়সের আগে কোনো শিশুকে শ্রমিকের পেশায় নিয়োজিত করার আইন আমাদের দেশে নেই। আমাদের দেশে শুধু দারিদ্র্যের কারণে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। যারা এই ধরনের নিষ্ঠুর শিশু নির্যাতন করে তাদেরকে অবশ্যই আইনের আওতায় আনা হবে।’
মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমি ভাটারা থানার ওসির সঙ্গে কথা বলেছি, তিনি ইতিমধ্যেই শিশু নির্যাতন আইনে ওই গৃহকর্তৃকে আটক করেছেন। আমরা নির্যাতিত শিশুটির চিকিৎসার সর্বাত্মক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করেছি। আমাদের মানবাধিকার কমিশন থেকেও এ ব্যাপারে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে।’
নির্যাতিত শিশুর চিকিৎসার বিষয়ে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আসাদুজ্জামান বলেন, ‘শিশুটির চিকিৎসার বিষয়ে যত পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং চিকিৎসার প্রয়োজন আমাদের হাসপাতালের পক্ষ থেকে সকল ব্যবস্থাই এরইমধ্যে গ্রহণ করা হয়েছে। বর্তমানে এই শিশুটিকে বার্ন ইউনিটের অবজারভেশনে রাখা হয়েছে। আরও কয়েক ঘণ্টা পরে তাকে ওয়ার্ডে বা নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হতে পারে। এ বিষয়ে আমাদের দায়িত্বরত চিকিৎসকেরা যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নেবেন বলে আমাকে আশ্বস্ত করেছেন। আমি নিজেও শিশুটির চিকিৎসার বিষয়ে খোঁজ-খবর নিচ্ছি।’
উল্লেখ্য, ভাটারার বসুন্ধরার আবাসিক এলাকা থেকে জিনাত জাহান নামের এক নারীর বাসা থেকে গতকাল শনিবার দুপুরে নির্যাতিত ওই কিশোরীকে উদ্ধার করে পুলিশ। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। পরে তার ওপর করা অমানবিক নির্যাতনের বর্ণনা দেয় ওই কিশোরী।
নির্যাতনের শিকার কিশোরী বলে, ‘আমাকে ঠিকমতো খাবার দেয় না। সারা দিনে মাত্র একবেলা খাবার দেয়। সব সময় মারধর করে। বাবা-মায়ের সঙ্গে যোগাযোগও করতে দেয় না।’
তার অভিযোগ, তুচ্ছ কারণে তাকে নির্যাতন করেন জিনাত জাহান। এই তরুণীর বাবা-মা থাকেন রাজধানীর জিগাতলায়। সম্পর্ক ভালো না থাকায় সে একাই থাকতো বসুন্ধরায়।
ভাটারা থানার পুলিশ বলছে, গত কয়েক বছর ধরেই এই কিশোরীকে নির্যাতন করছিলেন জিনাত। অবশেষে শনিবার তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।