সিটি কলেজকে স্থানান্তরের দাবি ঢাকা কলেজ শিক্ষকদের

সিটি কলেজকে তার বর্তমান অবস্থান থেকে স্থানান্তরের দাবি জানিয়েছেন ঢাকা কলেজের শিক্ষকরা। বুধবার দিনভর সিটি কলেজ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংঘর্ষের পর এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান তারা। 

সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্যে এই সংঘর্ষের জন্য সিটি কলেজের শিক্ষার্থীদের দায়ী করে তাদের আওয়ামী লীগের দোসর বলে দাবি করা হয়। 

লিখিত বক্তব্যে ঢাকা কলেজ শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আ ক ম রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আজকের আমাদের ১৮৪তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী অনুষ্ঠান শেষে করে শিক্ষার্থীরা কলেজ বাস দিয়ে সায়েন্সল্যাব মোড়ে যাওয়ার পথে সিটি কলেজের সন্ত্রাসীরা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে হামলা চালায়। পূর্বের ফ্যাসিস্ট সরকারের দোষর হয়ে বর্তমান সরকারের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যর্থ করাতেই আওয়ামী দোষরদের এই সন্ত্রাসী হামলা। এখানে সিটি কলেজের সন্ত্রাসীরা ছুড়ি ও বড়সড় প্রাণঘাতী অস্ত্র দিয়ে হামলা করেছে, তাদের টিভি ফুটেজ দেখে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আইনের আওতায় আনতে হবে।’

এ ছাড়াও ঢাকা কলেজের শিক্ষকদের আরও ৮টি দাবি জানিয়েছেন। লিখিত বক্তব্যে ঢাকা কলেজের শিক্ষকরা বলছেন, ‘ইতিপূর্বে সকল বিশৃঙ্খলার সাথে সিটি কলেজের কতিপয় সন্ত্রাসী শিক্ষার্থীরা দোষী সাবস্ত হওয়ায় এবং পরবর্তী সংঘর্ষ এড়াতে সিটি কলেজকে স্থানান্তর করতে হবে।’

বুধবার ঢাকা কলেজ ও সিটি কলেজ শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় সায়েন্সল্যাব এলাকা। এতে দুই কলেজের অন্তত ৩৬ জন শিক্ষার্থী আহত হয়। 

ঢাকা কলেজ শিক্ষকদের লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়েছে, ‘দেড়শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। এমনকি শিক্ষকরাও আহত হয়েছেন। আহত শিক্ষার্থীদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে। আগামীকাল আমাদের যে সকল পরীক্ষার্থী রয়েছে তাদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। আহত পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিতে পারে তার ব্যবস্থা নিতে হবে।’

এতে আরও বলা হয়, ‘আমাদের স্থাপনায় সেনাবাহিনী সরাসরি হামলা ও ভাংচুর করেছে, যা আমাদের জন্য লজ্জানজক। এ হামলায় সংশ্লিষ্ট জড়িত প্রশাসনের উর্ধ্বত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। বিশেষ করে দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তা, যারা এই হামলার নির্দেশ দিয়েছে তাদের পদত্যাগ করতে হবে। সিটি কলেজের যেসকল শিক্ষকরা এই নিন্দনীয় ঘটনা সরাসরি নির্দেশ ও জড়িত তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে।’

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে স্বশরীরে ঢাকা কলেজ ক্যাম্পাস পরিদর্শনের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষকরা। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়েছে, ‘এই হামলায় জড়িত সেনা ও পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ক্ষমা চেয়ে পদত্যাগ করতে হবে। ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই সকল দাবী দাওয়া মেনে নিয়ে ঢাকা কলেজে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।’

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়েছে, ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ঢাকা কলেজের সাত শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন এবং শত শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। তাই পরিকল্পিতভাবে ঢাকা কলেজের ১৮৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে হামলা করে বর্তমান সরকারকে ব্যর্থ করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। যাতে সরাসরি সিটি কলেজ ও পুলিশ জড়িত ছিল।’