মাদারীপুরের রাজৈরে ২০১৫ সালে একটি চাঁদাবাজির মামলার সাক্ষী ব্যবসায়ী বাবুল হাওলাদারকে কুপিয়ে হত্যা মামলায় ৫ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এই মামলায় দোষ প্রমাণিত না হওয়ায় ১৯ আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
বুধবার বিকেলে জেলার সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবির এই রায় দেন। দণ্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে ৫ আসামিকে।
মামলার এজাহার থেকে জানা গেছে, ২০১৪ সালে একটি চাঁদাবাজি মামলায় সাক্ষী করা হন মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার শাখারপাড় গ্রামের ফল ব্যবসায়ী বাবুল হাওলাদারকে। এরই জেরে ২০১৫ সালের ৪ জানুয়ারি বাবুল হাওলাদারকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ঘটনার দুদিন পর ৬ জানুয়ারি ৪২ জনের নামে রাজৈর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহতের বড় ছেলে ইমরান হাওলাদার। মামলা দায়েরের পর ইমরানকে বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি দেখায় আসামিপক্ষ। পরে তিনি বিদেশ চলে যান। এরপর উচ্চ আদালদের নির্দেশে মামলা পরিচালনার দায়িত্ব পান নিহতের ছোট ছেলে আসাদুল হাওলাদার।
সর্বশেষ তৃতীয় দফায় ২০১৬ সালের ২৪ মে ২৭ জনের মধ্যে আদালতে চার্জশিট জমা দেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তৎকালীন সহকারী পুলিশ সুপার মো. মনিরুজ্জামান ফকির। মামলা চলাকালে চার্জশিটভুক্ত তিন আসামির মৃত্যুও হয়।
এরপর যুক্তিতর্ক, দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া ও ১২ জনের সাক্ষ্য নেন আদালত। আজ বিকেলে সাহেবালী মুন্সি, খোকন মুন্সি, সাহাবুদ্দিন মুন্সি, লাবলু মুন্সি ও হান্নান মুন্সি এই ৫ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন বিচারক। একইসঙ্গে প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানাও করা হয়। জরিমানার অর্থ দেওয়া ব্যর্থ হলে আরও এক বছর করে কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়। এছাড়া দোষ প্রমাণিত না হওয়ায় বাকি আসামিদের খালাস দেওয়া হয়েছে।
মামলার রায়ের সময় হান্নান মুন্সি ছাড়া সাজাপ্রাপ্ত ৪ আসামি আদালতে উপস্থিত ছিল। পরে তাদের কড়া নিরাপত্তায় জেল হাজতে পাঠানো হয়।
নিহতের ছোট ছেলে ও মামলার বাদী আসাদুল হাওলাদার বলেন, ‘আমার বাবা একজন নিরীহ মানুষ ছিলেন। তাকে নির্মমভাবে আসামিরা কুপিয়ে হত্যা করেছে। আমরা অন্তত ৫ জন আসামির ফাঁসি ও অন্যদের বেশ কয়েকজনের যাবজ্জীবন সাজার আশা করেছিলাম। কিন্তু আদালত যে রায় দিয়েছেন, এতে আমরা ও আমাদের পরিবার সন্তুষ্ট নই।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এমারত হোসেন বলেন, ‘এই রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করবে।’
আসামি পক্ষের আইনজীবী ফজুর রহমানর হিরু বলেন, ‘আমরা আসামিপক্ষ ন্যায় বিচার পাইনি। আমাদের সকল আসামি নির্দোষ ছিল। তাই আমরা ৫ আসামির সাজার বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাব।’