ঈদে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে নেওয়া হয়েছে প্রস্তুতি। যাত্রী ও যানবাহন পারাপারে প্রস্তুত করা হয়েছে ১৭ ফেরি ও ২০টি লঞ্চ। এছাড়া, ঈদের আগে ও পরে তিনদিন পণ্যবাহী ট্রাক পারাপারও বন্ধ থাকবে। সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশের পাশাপাশি কাজ করবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা।
দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে দিনে দেড় থেকে দুই হাজার যানবাহন চলাচল করে। তবে ঈদের সময় চাপ বাড়ে কয়েকগুণ।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া ঘাটের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন বলেন, ‘আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে আমাদের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। ঈদে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে রো রো (বড়) ফেরি ৯টি, মিডিয়াম টাইপ ফেরি ৩টি ও ইউটিলিটি (ছোট) ফেরি ৫টিসহ বহরে মোট ১৭টি ফেরি থাকবে। এ ছাড়াও দৌলতদিয়া প্রান্তে ৩, ৪ ও ৭ নম্বরসহ মোট ৩টি ঘাট সচল থাকবে। এছাড়াও ঈদুল আজহার আগে পানি বাড়লে আরেকটি ফেরিঘাট চালু করা হবে। ১৭টি ফেরি ও ৩টি ঘাটের মাধ্যমে দৌলতদিয়া ঘাট দিয়ে যাত্রীরা নির্বিঘ্নে পারাপার হতে পারবে।’
জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আবু রাসেল বলেন, ‘আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। থানা–পুলিশ, সাদা পোশাকে পুলিশ, ডিবি পুলিশসহ একাধিক টিম থাকবে। এ ছাড়াও নৌপুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ আমাদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে। যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে জেলা পুলিশ সর্বদা মাঠে থাকবে।’
জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার বলেন, মানুষ যাতে করে স্বস্তিতে বাড়ি ফিরতে পারে সেজন্য সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ঈদের দিনসহ ঈদের আগের তিন দিন ও ঈদের পর আরও সাত দিন নদীতে বালুবাহী বাল্কহেড চলাচল বন্ধ থাকবে। সন্ধ্যায় নদী পথে পশুবাহী ট্রলার থাকবে না। প্রত্যেকটি পশুবাহী ট্রলারে গন্তব্য স্থানের নাম লেখা থাকতে হবে। লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহনও বন্ধ থাকবে। এ ছাড়াও পশুবাহী ট্রাকগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পার করা হবে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি ঘাট এলাকায় ঈদের আগে ও পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট থাকবে বলে জানান জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, দৌলতদিয়া ঘাটে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা রাখতে হবে। এ ছাড়া টার্মিনালে যানবাহনের ভাড়ার তালিকা দৃশ্যমান থাকবে।