বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনে বাঘা আইড় মাছ ধরা ও বিক্রি নিষিদ্ধ হলে রাজবাড়ীতে প্রকাশ্যেই বিক্রি হলো একটি বড় আকারের মাছ। পদ্মা নদীতে জেলেদের জালে ধরা পড়া মাছটির ওজন ছিল ৫০ কেজি। আর এটি বিক্রি হয় সাড়ে ৭৭ হাজার টাকায়। বাঘা আইড় মাছ প্রকৃতি সংরক্ষণবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা-আইইউসিএন-এর তালিকাভুক্ত বিপন্ন প্রাণী।
আজ শনিবার দুপুরে গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের কলাবাগান এলাকায় পদ্মা নদীতে জেলে সিদ্দিক হলদারের জালে মাছটি ধরা পড়ে। পরে উন্মুক্ত নিলামে ১ হাজার ৫৫০ টাকা কেজি দরে মোট ৭৭ হাজার ৫০০ টাকায় মাছটি কিনে নেন স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ী চান্দু মোল্লা।
সিদ্দিক হলদারের বরাতে আড়ৎদার রেজাউল মন্ডল বলেন, ‘দুপুরে সিদ্দিক হলদার তার দল নিয়ে পদ্মায় মাছ শিকারে যায়। কলাবাগান এলাকায় জাল ফেলে বিশাল আকারের একটি বাঘা আইড় মাছ পান। মাছটি আমার আড়তে নিয়ে এসে ওজন দিলে দেখা যায় মাছটির ওজন ৫০ কেজি। এসময় মাছটি দেখতে স্থানীয়রা ভিড় করে।’
জেলের কাছ থেকে কিনে নেওয়া স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ী চান্দু মোল্লা বলেন, ‘এত বড় বাঘা আইড় মাছ খুব কমই দেখা যায়। নিলামে মাছটি কেনার পর ফেরি ঘাটের পন্টুনে বেঁধে রাখা হয়। মাছটি বিক্রির জন্য মোবাইলে দেশের বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করা হচ্ছে। কেজি প্রতি ১০০ টাকা লাভ পেলেই মাছটিকে বিক্রি করা হবে।’
বাঘা আইড় মাছ বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন ২০১২-এর ২ নম্বর তপশিলভুক্ত একটি সংরক্ষিত বন্যপ্রাণী। বিপন্ন প্রজাতির এই মাছ শিকার, ক্রয়-বিক্রয় ও পরিবহন কিংবা দখল আইনত নিষিদ্ধ এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ। আইন অনুযায়ী, এসব অপরাধে সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদণ্ড অথবা ৫০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডই হতে পারে। তবে এভাবে আইনের তোয়াক্কা না করেই প্রকাশ্যে বাঘা আইড় শিকার ও কেনাবেচা চললেও প্রশাসনের কোনো নজরদারি নেই।
এ বিষয়ে রাজবাড়ী জেলা বন কর্মকর্তা মীর সাইদুর রহমানের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রাজবাড়ী জেলা বন বিভাগের আরেক কর্মকর্তা বলেন, ‘খুব শীঘ্রই দৌলতদিয়ায় জেলেদের সঙ্গে সভা করা হবে। সভায় তাদের বোঝানো হবে বাঘাআইড় শিকার, কেনাবেচা নিষিদ্ধ। এরপর থেকে যারা বাঘা আইড় শিকার, কেনাবেচা করবে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।’
বিপন্ন প্রজাতির এই মাছ শিকারীদের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আইন প্রয়োগের আগে এই মাছ শিকার, বেচাকেনা নিষিদ্ধ সেই বার্তা তো জেলে বা ব্যবসায়ীদের দিতে হবে। যদি এখন অভিযান পরিচালনা করি তখন জেলে বা ব্যবসায়ীরা বলবে আমরা তো জানি না। এই অজুহাত যেন আর না দিতে পারে সেজন্য সভার পরে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
মিঠাপানির মাছ বাঘা আইড় একটা সময় দেশের নদ-নদী, হাওর-বাঁওড়ে সহজলভ্য ছিল। প্রায়ই জেলেদের জালে ধরা পড়ত। সাধারণ মানুষের কাছেও পরিচিত ও জনপ্রিয় মাছ এটি। কিন্তু অপরিকল্পিত ও নির্বিচার নিধন, নদ-নদী ভরাটসহ নানা কারণে এই মাছ বিপন্ন ও বিলুপ্তির পথে।