ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছে। গতকাল রোববার বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত পাঁচ ঘণ্টাব্যাপী দফায় দফায় উপজেলার পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের ধুলজোড়া ব্রিজ এলাকায় এ সংঘর্ষ হয়।
সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে মুমূর্ষু অবস্থায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকিরা বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ থেকে বিএনপিতে যোগদানকারী মান্নান মাতুব্বর এবং পার্শ্ববর্তী সালথা উপজেলার খাড়দিয়া গ্রামের বিএনপি নেতা মুশফিক বিল্লাহ জিহাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এর ধারাবাহিকতায় গত শনিবার (২৯ আগস্ট) জিহাদ গ্রুপের সোলায়মান মাতুব্বর ময়েনদা বাজারে আসলে তার ওপর হামলা করে মান্নান মাতুব্বরের লোকজন। হামলায় সোলায়মান মাতুব্বর গুরুতর আহত হন। খবর পেয়ে মুশফিক বিল্লাহ জিহাদ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত সোলায়মানকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। এর কিছুক্ষণ পর দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে মুশফিক বিল্লাহ্ জিহাদের ওপরও অতর্কিত হামলা চালানো হয়। এতে তিনিও গুরুতর আহত হন। পরে পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মান্নান মাতুব্বর ও নটখোলা গ্রামের তারা মিয়ার নেতৃত্ব মান্নান মাতুব্বরের লোকজন দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত ১০/১২ জনের একটি দল এই হামলা চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এ ঘটনার জের ধরে রোববার বিকেলে মান্নান মাতুব্বরের লোকজন পরমেশ্বরদী গ্রামের ছরোয়ার খাঁর বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এসময় ছরোয়ার খাঁর বাড়ি থেকে পাট ও পেঁয়াজ লুট করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়। পরবর্তী খাড়দিয়া গ্রামের হুমায়ন খাঁ, রফিক মোল্যা ও ইলিয়াস কাজীর নেতৃত্বে মান্নান মাতুব্বর গ্রুপের লোকজনদের সাথে ধুলজোড়া ব্রিজের নিকট সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। এতে উভয়গ্রুপের কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়। আহতদের বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হলে গুরুতর আহত পরমেশ্বরদী গ্রামের বাচ্চু মোল্যার ছেলে কবির মোল্যা, হাশেম মোল্যার ছেলে কামরুল মোল্যা, মনসুর মোল্যার ছেলে লোকমান মোল্যাকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া বোয়ালমারীসহ আশপাশের হাসপাতালে অনেকেই চিকিৎসাধীন রয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে উভয় পক্ষের নেতৃত্বদানকারী কাউকে পাওয়া যায়নি। তাদের মোবাইল নম্বরও বন্ধ পাওয়া যায়।
এ নিয়ে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. ইজাজ আহমেদ শাওন বলেন, সন্ধ্যার পর বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তাদেরকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। ৩ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বিস্তারিত তথ্য পরবর্তীতে জানানো সম্ভব হবে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।



