রাজধানীর উত্তরা মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় দগ্ধ ফারজানা ইয়াসমিন (৪৫) নামের একজন রোগীকে ছাড়পত্র দিয়েছেন চিকিৎসকরা। তিনি উক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষিকা ছিলেন।
এ ঘটনায় বর্তমানে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ৩২ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর মধ্যে আইসিইউতে রয়েছেন ২ জন, যাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আরও ১ জনকে আইসিইউ থেকে এইচডিইউ-তে স্থানান্তর করা হয়েছে, যার শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে।
আজ বুধবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে বার্ন ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসির উদ্দিন এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, ‘৩২ জন রোগীর মধ্যে ৩ জন ক্রিটিক্যাল ক্যাটাগরিতে, ৭ জন সিভিয়ার ক্যাটাগরিতে এবং বাকি রোগীরা অন্যান্য ওয়ার্ড ও কেবিনে চিকিৎসাধীন।’
তিনি আরও জানান, এখন পর্যন্ত মোট ১৫৮টি ছোট-বড় অপারেশন করা হয়েছে এবং ১৪ জন রোগীর শারীরিক অবস্থা উন্নতির দিকে রয়েছে। গত তিন দিন ধরে কোনো নতুন মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, আজকের পর থেকে বার্ন ইনস্টিটিউটে আর আনুষ্ঠানিকভাবে ব্রিফ করা হবে না। প্রতিদিনের চিকিৎসা সংক্রান্ত হালনাগাদ তথ্য প্রেস রিলিজের মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে।
এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে আরও একজনের মৃত্যু হয়।
গত ২১ জুলাই দুপুরে উত্তরার দিয়াবাড়ি এলাকায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রশিক্ষণে ব্যবহৃত একটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়।
এদিকে, মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির নিহতের সংখ্যা নিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্যে সংশোধন করা হয়েছে হয়েছে। আগের হিসেবে নিহতের সংখ্যা ছিল ৩৫, কিন্তু রোববার (২৭ জুলাই) তা কমে দাঁড়িয়েছে ৩৪। গত রোববার দিবাগত রাত পৌনে ২টার দিকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় মাইলস্টোনের ইংরেজি ভার্সনের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী আয়ান। নতুন করে আয়ানের মৃত্যুতে এই সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৩৫। এদিকে আজ (৩০ জুলাই) স্কুলে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা ৩৪ জন করে আবারও সংশোধনী বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।