মুন্সিগঞ্জে হত্যা মামলায় দুই আসামির যাবজ্জীবন 

মুন্সিগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে এক বৃদ্ধকে হত্যা মামলায় দুই আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আজ রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মুন্সিগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত দায়রা জজ খালেদা ইয়াসমিন ঊর্মি এ রায় ঘোষণা করেন। 

দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- সিরাজদিখান উপজেলার উত্তর বাসাইল গ্রামের নূর মোহাম্মদ খান ওরফে নুরু এবং মো. আইয়ুব খান। রায় ঘোষণাকালে আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

আদালত আসামি নূর মোহাম্মদ খান ওরফে নুরুকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন। একই সঙ্গে আসামি মো. আইয়ুব খানকেও যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেন। পরে আদালতের নির্দেশে তাদের সাজা পরোয়ানামূলে জেলহাজতে পাঠানো হয়। 

এদিকে রায় ঘোষণার পর আদালত প্রাঙ্গণে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। নিহতের ছেলে শাওন খান অভিযোগ করেন, রায় ঘোষণার পর আদালতের বারান্দায় আসামি নুরু ও তার বোন বাপ্পি মিলে তাকে মারধর করেছে। 

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধের জেরে ২০১৭ সালের ৪ জুন বিকেলে রাঙামালিয়া গ্রামের মৃত হাছেন উদ্দিনের ছেলে আব্দুস সামাদ (৬৫) নিজ বাড়ি থেকে পাশের ইমামগঞ্জ বাজারে যাওয়ার পথে উত্তর পাশের রাস্তায় পৌঁছালে আসামিরা ধারালো ছরি দিয়ে কুপিয়ে তাকে হত্যা করে। ঘটনার পর নিহতের ছেলে আরিফ হোসেন বাদী হয়ে সিরাজদিখান থানায় ৩ জনকে নামীয় ও ২-৩ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় মোট ১৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত আজ এই রায় ঘোষণা করেন। 

বাদী আরিফ হোসেন বলেন, ‘আমার বাবাকে কুপিয়ে খুন করেছে ওরা। আজ আদালত দুজনকে যাবজ্জীবন দিয়েছে, কিন্তু রায় ঘোষণার পরও ওরা আদালতে আমার ভাই শাওনকে মারধর করেছে। আমি তাদের ফাঁসি চাই।’ 

এ বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) নাসিম আখতার বলেন, ‘আদালত ১৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও উপস্থাপিত প্রমাণের ভিত্তিতে রায় দিয়েছেন। আমরা রাষ্ট্রপক্ষ থেকে এ রায়ে সন্তুষ্ট।’