রাজবাড়ীর আলোচিত নুরুল হক ওরফে নুরাল পাগলার মরদেহ কবর থেকে তুলে পোড়ানো ও দরবারে হামলার প্রায় আড়াই মাস পর আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।
গতকাল বৃহস্পতিবার নুরাল পাগলার পরিবারের পক্ষ থেকে রাজবাড়ী আদালতে ৯৬ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত ৫ শতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা করেন নুরাল পাগলার স্ত্রীর বড় বোন। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তামজিদ হোসেন মামলাটি তদন্তের জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দেন।
মামলার নথি থেকে জানা যায়, গত ২৩ আগস্ট বার্ধক্যজনিত কারণে মারা যান নুরুল হক ওরফে নুরাল পাগলা। সেদিন রাতেই দরবারের ভেতরে তাঁকে দাফন করা হয়। এরপর উঁচু করে কবর দিয়ে শরিয়তবিরোধী কাজ করেছে, এমন অভিযোগ তুলে ৫ সেপ্টেম্বর শুক্রবার জুমার নামাজের পর গোয়ালন্দে নুরাল পাগলার দরবারে হামলা চালায় ‘তৌহিদি জনতা’। এ সময় সংঘর্ষে রাসেল মোল্লা নামে নুরাল পাগলা এক ভক্ত নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হন। হামলাকারীরা একপর্যায়ে নুরাল পাগলার কবর খুঁড়ে লাশ তুলে এনে মহাসড়কের ওপর ফেলে আঘাত করে ও আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। পরবর্তীতে নুরাল পাগলার বাড়িতে লুটপাট চালায় হামলাকারীরা।
নুরাল পাগলার দরবারে হামলার সময় পুলিশের ওপর হামলা হয়। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে ৩ থেকে সাড়ে ৩ হাজার অজ্ঞাত ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করে। নুরাল পাগলার ভক্ত নিহত রাসেল মোল্লার বাবা মো. আজাদ মোল্লা বাদী হয়ে ৪ থেকে সাড়ে ৪ হাজার অজ্ঞাত ব্যক্তির নামে হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই দুই মামলায় পুলিশ এখন পর্যন্ত ২৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।