রাজধানীর তেজগাঁওয়ের বিটিসিএল কার্যালয়ে চোর সন্দেহে এক যুবককে আটক করে হত্যার ঘটনায় আনসার সদস্যের জড়িত থাকার বিষয়টি ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী।
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সহকারী পরিচালক ও গণসংযোগ কর্মকর্তা মো. নাজমুস সাকিব স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।
বিপ্তিতে বলা হয়, মঙ্গলবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ের বিটিসিএল কার্যালয়ে চোর সন্দেহে এক যুবককে আটক করে আনসার সদস্যদের দ্বারা পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদটি বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর দৃষ্টিগোচর হয়েছে। প্রকাশিত সংবাদে আনসার সদস্যদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা বাহিনী কর্তৃপক্ষের প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ভিত্তিহীন ও বাস্তব ঘটনার সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে তেজগাঁও টি অ্যান্ড টি তার ভাণ্ডার এলাকায় কয়েকজন যুবক অনুপ্রবেশ করে। এ সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত অঙ্গীভূত আনসার সদস্য শাহজামাল এক যুবককে চুরি করতে দেখেন এবং তাকে ধাওয়া করেন। পুরানো টিনের চালের ওপর দিয়ে দৌড়ানোর একপর্যায়ে চোর চাল ভেঙে নীচে পড়ে যায়। পরবর্তীতে তাকে উদ্ধার করে বিটিসিএল সংস্থার স্টাফ মো. শওকত হোসেন ওই যুবককে আটক করেন। সংস্থার টেলিফোনিক নির্দেশে নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত অঙ্গীভূত আনসার সদস্যরা তাকে আটক করতে সহযোগিতা করেন।
ঘটনাস্থলে দায়িত্ব পালনকারী আনসার সদস্যদের মধ্যে পিসি নুরুল ইসলাম আটককৃত চোরকে বিটিসিএল কর্তৃপক্ষের পি.ও. সুলতান মাহমুদ এবং ইলেকট্রিশিয়ান সাইফুল ইসলামের কাছে হস্তান্তর করেন। এরপর আনসার সদস্যরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে নিজ নিজ দায়িত্বস্থলে ফিরে যান।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সুতরাং প্রকাশিত সংবাদে আনসার সদস্যরা আটক যুবককে ক্যাম্পে নিয়ে গিয়ে মারধর করেছেন এবং এর ফলে তার মৃত্যু হয়েছে বলে যে তথ্য প্রচার করা হয়েছে, তার সঙ্গে প্রকৃত ঘটনার কোনো সামঞ্জস্য নেই। বিশেষ করে যুবককে আনসার সদস্যরা ক্যাম্পে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন করেছেন বা মারধর করেছেন, এমন তথ্যের কোনো ভিত্তি নেই। সেক্ষেত্রে আনসার সদস্য কর্তৃক আহত যুবককে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার প্রচারিত তথ্য নিতান্তই অবান্তর এবং অপ্রাসঙ্গিক।
এতে বলা হয়, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আইন, বিধি ও মানবিক মূল্যবোধের প্রতি সর্বদা শ্রদ্ধাশীল। কোনো স্থাপনায় নিরাপত্তা ভঙ্গকারী ব্যক্তিকে যথাযথ আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সোপর্দ করাই দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যদের মূল কর্তব্য। এ ক্ষেত্রেও আটক ব্যক্তিকে সংশ্লিষ্ট সংস্থার দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের কাছে হস্তান্তরের মাধ্যমে অঙ্গীভূত আনসার সদস্যরা তাদের দায়িত্ব পালন করেছেন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী কোনো ধরনের আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ড, নির্যাতন বা মানবাধিকার লঙ্ঘনকে প্রশ্রয় দেয় না। একই সঙ্গে কোনো ঘটনার বিষয়ে যাচাই-বাছাই ছাড়া বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ প্রচারিত হলে তা বাহিনীর ভাবমূর্তি ও জনআস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তাই প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের বক্তব্য ও তথ্য যথাযথভাবে যাচাই করে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের জন্য গণমাধ্যমের প্রতি অনুরোধ জানানো হচ্ছে।



