আশুলিয়ার জামগড়ায় তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে স্বামী-স্ত্রী ও সদ্যভূমিষ্ঠ নবজাতকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় প্রধান অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা জেলা পিবিআই (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন)। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির নাম মনিরুজ্জামান হৃদয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পরকীয়ার জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে তিনি স্বীকার করেছেন। এছাড়া, আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ভিকটিমের মোবাইল ফোন, জাতীয় পরিচয়পত্র ও হ্যান্ড পার্স উদ্ধার করা হয়েছে।
আজ বুধবার দুপুরে ঢাকা জেলা পিবিআই কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার এম এন মোর্শেদ।
সংবাদ সম্মেলনে পিবিআইয়ের এই কর্মকর্তা জানান, গত ৫ সেপ্টেম্বর রাতে জামগড়ার একটি তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে আলমগীর কবির, তাঁর স্ত্রী নাজমা খাতুন এবং তাঁদের নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহত নাজমার বোন আশুলিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পরবর্তীতে পিবিআই তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত চালিয়ে তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক আনিসুর রহমান গতকাল আশুলিয়ার নরসিংহপুর এলাকা থেকে আসামি হৃদয়কে গ্রেপ্তার করে।
পিবিআইর পুলিশ সুপার জানান, নিহত নাজমার সঙ্গে আসামি হৃদয়ের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বিষয়টি জানতে পেরে স্বামী আলমগীর সম্প্রতি জামগড়ায় বাসা পরিবর্তন করেন। গত ২ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় হৃদয় তাদের নতুন বাসায় গেলে বাগ্বিতণ্ডা ও হাতাহাতি হয়। একপর্যায়ে হৃদয় অন্তঃসত্ত্বা নাজমার পেটে লাথি মারলে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয় এবং মৃত বাচ্চা প্রসব হয়। পরে আলমগীর এগিয়ে গেলে তাকেও গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে। এরপর ঘর বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে পালিয়ে যায় ঘাতক।


আশুলিয়ায় বাসা থেকে নবজাতকসহ স্বামী-স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার
