ফরিদপুরে ফুটবল খেলা দেখাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মারামারি ও হোস্টেল ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার দিবাগত রাত ২টার দিকে ফরিদপুর শহরতলীর চুনাঘাটা এলাকায় অবস্থিত ইনস্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলজির আবাসিক ছাত্র হোস্টেলে এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, রেয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনার মধ্যকার স্প্যানিশ সুপার কাপের ফাইনাল ম্যাচের সময় উল্লাস করায় হোস্টেলে থাকা জুনিয়র শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করে সিনিয়র শিক্ষার্থীরা। এসময় হোস্টেলের দরজা, জানালা ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়।
এ ঘটনায় আহত অবস্থায় ৭ জন শিক্ষার্থীকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। বর্তমানে মাথায় ক্ষত নিয়ে তিনজন চিকিৎসাধীন রয়েছে। আহতদের মধ্যে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে প্রতিষ্ঠানটির তৃতীয় বর্ষের চতুর্থ সেমিষ্টারের মেরিন টেকনোলজি বিভাগের আমিরুল ইসলাম (১৮), নিরব হোসেন (১৯) ও জুনায়েদ হোসেন (১৯)।
এছাড়া একই বর্ষের হাসিন, সজিব, খতিবুল ইসলাম ও শীপ বিল্ডিং বিভাগের তাহসান নামে আরও চারজন আহত হয়। তাঁদেরকে উদ্ধার করে রাতেই ফরিদপুর মেডিকেলে নেওয়া হলে ৪ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।
আহত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, মেরিন টেকনোলজির বিভাগের ৬ষ্ঠ সেমিষ্টারের শিক্ষার্থী পিয়াস, আদনান, কাউছার, নাঈম, বিল্লাল ও ইমনসহ ২০ থেকে ৩০ জন শিক্ষার্থী অতর্কিতভাবে তাঁদের ওপর হামলা চালায়। এছাড়া ক্যাম্পাসে র্যাগিং প্রথা ও মাদকসেবন বন্ধ করায় ক্ষোভে তাঁরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত শিক্ষার্থীরা। এমনকি তাদেরকে বাথরুমে আটকে নির্যাতন চালানো হয়েছে বলেও জানায় তারা।
এ সময় শীপ বিল্ডিং টেকনোলজি বিভাগের সাকিব আলী খান নামে আরেক শিক্ষার্থী বলেন, 'কিছু তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে তাঁরা নিয়মিত আমাদের সাথে ঝামেলা বাঁধিয়ে আসছে। আমরা ক্যাম্পাসে র্যাগিং বন্ধ করায় এবং মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলায় আমাদের বিভিন্ন সময় টর্চারও করে আসছে। স্যারদের জানালে তাঁরা আরও হুমকি-ধমকি দিয়ে থাকে। এমনকি স্যাররাও কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এক সময়ে আমরা প্রশাসনকে জানাতে বাধ্য হয়েছিলাম, তারপর কিছু সময় চুপ ছিল।'
এই শিক্ষার্থী আরও বলেন, 'গতকাল রাতে রুমে বসে রেয়াল মাদ্রিদ ও বার্সোলনার মধ্যেকার খেলা দেখছিলাম। এসময় গোল করায় কয়েকজন জোরে জোরে উল্লাস করে। এই সামান্য ঘটনা নিয়ে বড় ভাইরা লাঠিশোটা, লোহা ও স্টিলের পাইপ নিয়ে আমাদের ওপর অতর্কিতভাবে হামলা করে। রুমে দরজা ভেঙে ভেঙে আমাদের প্রত্যেককে তাঁরা নির্মমভাবে পিটিয়েছে, কয়েকজনের মাথা ফেটে রক্ত বের হলেও ওরা হামলা বন্ধ করেনি। আমাদের প্রতিটি রুমের জানালা, দরজা, খাট ভেঙে ফেলেছে। এমনকি টাকা পয়সাও নিয়ে গেছে।'
এদিকে অপরপক্ষের শিক্ষার্থী পিয়াসের দাবি, হামলা নয় দুইপক্ষের মধ্যে মারামারি হয়েছে। ওই শিক্ষার্থী বলেন, 'আমাদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝিকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটেছে। কোনো ভাঙচুর করা হয়নি। এ ঘটনায় আমাদের দুজনকেও হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল।'
বিষয়টি নিয়ে জানতে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) প্রকৌশলী মোহাম্মদ খোরশেদ আলমের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দিলেও সাড়া পাওয়া যায়নি। তবে সিনিয়র ইন্সট্রাক্টর প্রকৌশলী হারুন অর রশিদ বলেন, 'আমি ছুটিতে আছি, যতটুকু জেনেছি- এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত শেষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
ঘটনা প্রসঙ্গে কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, 'ঘটনার খবর পেয়েই পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। শিক্ষার্থী বা প্রতিষ্ঠানের কেউ থানায় এখনও অভিযোগ করেনি।'