ফরিদপুরে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন শাহ মো. আবু জাফর

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর-১ আসন (মধুখালী–বোয়ালমারী–আলফাডাঙ্গা) থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহ মো. আবু জাফর। সোমবার দুপুরে ফরিদপুরে কর্মরত সাংবাদিকদের কাছে এ বিষয়ে একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি পাঠান তিনি।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে শাহ মো. আবু জাফর উল্লেখ করেন, কয়েকদিন আগে শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা খুব একটা ভালো নয় এবং বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন। এমন পরিস্থিতিতে জাতীয় সংসদের মতো গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা তার পক্ষে সম্ভব নয়। এ কারণে তিনি এবারের নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন না।

তবে ভবিষ্যতেও ফরিদপুর-১ আসনের সব ধরনের সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এর আগে সোমবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বোয়ালমারী উপজেলা পরিষদে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. রকিবুল ইসলামের কাছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেন শাহ মো. আবু জাফর।

বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহ মো. আবু জাফরের বর্তমান বয়স ৮০ বছর। একাদশবারের মতো সংসদ সদস্য পদে প্রার্থী হয়েছিলেন তিনি। চার দশকের বেশি সময় সক্রিয় রাজনীতিতে থাকা শাহ মো. আবু জাফর ১৯৭৯ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত মোট ১০টি জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেন। এসব নির্বাচনে তিনি ছয়টি ভিন্ন দল ও জোটের প্রার্থী ছিলেন। এর মধ্যে চারবার নির্বাচিত হলেও ছয়বার পরাজিত হন। এবারে নিয়ে তিনি ১১তমবারের মতো ভিন্ন আরেকটি জোট থেকে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। সব মিলিয়ে তিনি সাতবার দল পরিবর্তন করেছেন।

শাহ মো. আবু জাফরের প্রথম সংসদ নির্বাচনী যাত্রা শুরু হয় ১৯৭৯ সালে। সে সময় তিনি আওয়ামী লীগ (মালেক) দলের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হন। ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে বাকশালের প্রার্থী হয়ে তিনি ফের জয় পান। ১৯৮৮ সালে জাতীয় পার্টির মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। সর্বশেষ ২০০৫ সালে অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হন শাহ মো. আবু জাফর।

অন্যদিকে, ১৯৯১ সালে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে, ১৯৯৬ সালের ১২ জুনের নির্বাচনে আবারও জাতীয় পার্টির প্রার্থী হয়ে এবং ২০০১ সালে জাতীয় পার্টি (নাজিউর রহমান মঞ্জু) ও বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহণ করেও তিনি বিজয়ী হতে পারেননি। ২০০৮ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেও পরাজিত হন। সর্বশেষ ২০২৪ সালের নির্বাচনে ‘কিংস পার্টি’ হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন (বিএনএম) দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচন করে পরাজিত হন তিনি।

প্রসঙ্গত, ফরিদপুর-১ আসনে এবারে মোট ১৫ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। যাচাই-বাছাইয়ে আটজনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। পরে আপিলে তিনজন মনোনয়ন ফিরে পেয়ে মোট ১০ জন প্রার্থী চূড়ান্ত হন। এর মধ্যে শাহ মো. আবু জাফর নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোয় বর্তমানে আসনটিতে নয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

চূড়ান্ত প্রার্থীরা হলেন— খন্দকার নাসিরুল ইসলাম (বিএনপি), মো. ইলিয়াস মোল্লা (জামায়াতে ইসলামী), মোহাম্মদ খালিদ বিন নাসের (বাংলাদেশ কংগ্রেস), মো. শরাফাত হোসাইন (বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস) ও মো. সুলতান আহমেদ (জাতীয় পার্টি)।

এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন হাসিবুর রহমান অপু (জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা), সাংবাদিক আরিফুর রহমান দোলন, মো. আবুল বাশার খান এবং মো. গোলাম কবির মিয়া।