অভাবের কারণে ঢাকার উত্তরায় একটি বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করত শিশুটি। শুরুতে ভালো গেলেও কিছুদিন পর ছোটখাটো বিষয় নিয়ে তাকে মারধর করা হতো। মারধরের একপর্যায়ে গরম বস্তু দিয়ে ১১ বছর বয়সী ওই শিশুটির শরীরের বিভিন্ন অংশে ছ্যাঁকা দিয়ে ক্ষত করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও সিইও সাফিকুর রহমান এবং তাঁর স্ত্রীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযুক্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করে সোমবার আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।
এদিকে গুরুতর আহত অবস্থায় শিশুটি বর্তমানে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে।
হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, সার্জারি বিভাগের বেডে কাতরাচ্ছে ১১ বছর বয়সী ওই শিশু। তার বুক, পিঠ, হাত-পা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারধর ও পোড়া ক্ষতের চিহ্ন স্পষ্ট। কিছু ক্ষত শুকিয়ে শক্ত হয়ে টান ধরেছে, আবার অনেক ক্ষত এখনও দগদগে অবস্থায় রয়েছে।
পরিবারের অভিযোগ, প্রায় আট মাস আগে সংসারের অভাব দূর করতে উত্তরায় সাফিকুর রহমানের বাসায় গৃহকর্মীর কাজ করতে পাঠানো হয় ওই শিশুকে। প্রথমদিকে ভালো ব্যবহার করা হলেও কিছুদিন পর থেকেই তার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু হয়।
শিশুটির বাবা অভিযোগ করে বলেন, মেয়ের সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ সীমিত করে দেওয়া হয়। দীর্ঘদিন মেয়ের সঙ্গে কথা বলতে না পারায় সন্দেহ তৈরি হলেও পরে জানতে পারেন তার মেয়ের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালানো হচ্ছে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ভুক্তভোগী শিশু জানায়, তাকে ঠিকমতো খাবার দেওয়া হতো না। সামান্য ভুল হলেই মারধর করা হতো এবং অনেক সময় বাথরুমে আটকে রাখা হতো। পরিবারের সঙ্গে কথা বলতেও বাঁধা দেওয়া হতো।
এ বিষয়ে উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী মোহাম্মদ রফিক আহম্মেদ জানান, ঘটনার পর ভুক্তভোগীর পরিবার থানায় মামলা দায়ের করে। মামলায় দুজনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও দুজনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়। মামলার ভিত্তিতে অভিযুক্ত চারজনকেই গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও হাসপাতাল পরিদর্শন করে ভুক্তভোগীর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিচ্ছেন।
এদিকে শিশুটির শারীরিক ও মানসিক অবস্থার উন্নতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন হাসপাতালের চিকিৎসক ও স্বজনেরা। চিকিৎসকেরা জানান, দীর্ঘদিনের নির্যাতনের কারণে শিশুটি শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং মানসিক আঘাতও গুরুতর।