গভীর শালবনে কিশোরকে হত্যা ও লাশ গুম, ভাইসহ গ্রেপ্তার ২

গাজীপুরে চাঞ্চল্যকর কিশোর রাহিম হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। পারিবারিক বিরোধের জেরে মাত্র ১৩ বছর বয়সী শিশুকে হত্যার পর গভীর শালবনে মাটি চাপা দিয়ে লাশ গুমের চেষ্টা করে অভিযুক্তরা। এ ঘটনায় পুলিশ ভিকটিমের বড় ভাইসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

বুধবার বেলা ১১টায় গাজীপুর পুলিশ সুপার কার্যালয়ে জেলা পুলিশ সুপার শরিফ উদ্দীন এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান।

ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার বলেন, গাজীপুরের জয়দেবপুর থানা এলাকায় রাহিমকে হত্যা করে গভীর শালবনের ভেতরে গর্ত করে মাটি চাপা দেওয়া হয়। পরে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি বিকেবাড়ি পদ্মপাড়া এলাকায় শালবনের ভেতর থেকে অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে পরিবারের সদস্যরা পোশাক দেখে তার মরদেহ শনাক্ত করেন।

এর আগে, রাহিমের বাবা নুরুল ইসলাম তার নিখোঁজের বিষয়ে জয়দেবপুর থানায় সাধারন ডায়েরি করলে তদন্তে নামে পুলিশ।

তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ৩ মার্চ ভোরে মির্জাপুর এলাকা থেকে ভিকটিমের বড় ভাই আলামিন হোসেন ও তার সহযোগী আশিক আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানায়, মোবাইল ফোন কেনা নিয়ে পারিবারিক বিরোধের জেরে আলামিন তার বন্ধুকে নিয়ে রাহিমকে বনে ডেকে নেয়। সেখানে মাফলার দিয়ে গাছে বেঁধে এবং মুখে স্কচটেপ পেঁচিয়ে ভয় দেখানোর একপর্যায়ে গলাটিপে হত্যা করা হয়। পরে লাশ গুমের উদ্দেশ্যে মাটি চাপা দেওয়া হয়। গ্রেপ্তারকৃত দুই আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান পুলিশ।