অভিযোগ আর পাল্টা অভিযোগের মধ্যেই অনুষ্ঠিত হচ্ছে বিভিন্ন জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন। তবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় ৩০ হাজার আইনজীবীর ঢাকা বার অ্যাসোসিয়েশন ভোট। ২৯ ও ৩০ এপ্রিলের নির্বাচনের ভোটে প্রভাব বিস্তারসহ নানা অভিযোগ তুলছেন বিএনপি ও জামায়াতের আইনজীবী নেতারা। এ ছাড়া নানা শঙ্কা সুপ্রিমকোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচন ঘিরেও।
দেশজুড়ে আইনজীবী সমিতিগুলোর নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ততা চলবে মাস দুয়েক। বিএনপি ও জামায়াত সমর্থিত প্যানেলের বাইরে কয়েকটি জেলায় জিতেছে আওয়ামী সমর্থিত প্যানেল।
সবচেয়ে বেশি আলোচনায় ঢাকা বার অ্যাসোসিয়েশন নির্বাচন। প্রায় ৩০ হাজার সদস্য নিয়ে এশিয়ার সবচেয়ে বড় আইনজীবী সমিতি এটি। ২৯ ও ৩০ এপ্রিলের নির্বাচন ঘিরে এরই মধ্যে উঠেছে নানা অভিযোগ।
জামায়াত ও এনসিপি সমর্থিত সবুজ প্যানেলের অভিযোগ, ১০ সদস্যের নির্বাচন কমিশনের সাত জনকেই বিএনপি সমর্থিত ফোরাম থেকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাঁদের দাবি, প্রতিদ্বন্দ্বী দুই প্যানেল থেকে সমান সদস্য নেওয়ার রেওয়াজ রয়েছে।
জামায়াত সমর্থিত আইনজীবী নেতা শিশির মনির বলেন, সরকার দলীয় আইনজীবীদেরকেই এর দায় নিতে হবে। ইলেকশন প্রসেসকে এবং রেজাল্ট নিজের পক্ষে আনার জন্য আগে থেকেই যে প্রস্তুতি নেওয়া দরকার সে প্রস্তুতির অংশ। এ জন্য ঢাকা বারের নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের ভেতরে সমতা আনা দরকার, পাঁচ জন-পাঁচ জন। এভাবে এগোলেই নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার সম্ভাবনা আছে, অন্যথায় নয়।’
তবে জামায়াতের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের নেতাদের। তাঁদের দাবি, সমান নয়, সংগঠনের ব্যাপ্তি অনুযায়ীই নির্বাচন কমিশনের সদস্য নিয়োগ দেওয়া হয়।
জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সাংগঠনিক সম্পাদক গাজী কামরুল ইসলাম সজল বলেন, ‘চারটি বারে আওয়ামী লীগ সমর্থিত আইনজীবীরা বিজয়ী হয়েছেন। সরকার যদি প্রভাব বিস্তার করত তাহলে এটি সম্ভব ছিল না। আমি মনে করি, একটিমাত্র সংগঠন যারা বিগত দিনে গুপ্ত অবস্থায় ছিল তারা এখন প্রকাশ্যে এসে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য এ ধরনের প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছে। এ মুহূর্তে সবুজ প্যানেল যে দাবি করছে সেটি আমরা মনে করি অবান্তর ও অযৌক্তিক। কারণ সমান সমান দিতে গেলে সংগঠন তো সমান সমান হতে হবে।’
আগামী ১৩ ও ১৪ মে অনুষ্ঠিত হবে আইনজীবীদের সবচেয়ে প্রভাবশালী সংগঠন সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচন। এরই মধ্যে বিভিনন ফোরাম থেকে শুরু হয়েছে মনোনয়ন ফরম বিতরণ। বিতর্কমুক্ত নির্বাচনের আশা আইনজীবীদের।
এদিকে বিভিন্ন জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন ও জ্বালানি সংকটে স্থগিত হওয়া বার কাউন্সিল নির্বাচনের নতুন তারিখ শিগগিরই ঘোষণা হবে বলে জানিয়েছেন আইনজীবী নেতারা।