রাজধানীতে দিনের বেলাতেও জ্বলছে সড়কবাতি, ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস কর্তৃপক্ষের

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে মার্কেট-অফিস আদালত সীমিত করাসহ নানা উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। অথচ দিনের বেলাতেও ঢাকা দক্ষিণে জ্বলছে সড়কবাতি। এতে একদিকে বাড়ছে বিদ্যুতের অপচয়, অন্যদিকে নাগরিকদের মধ্যেও তৈরি হচ্ছে ক্ষোভ। যাদের গাফিলতি রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রশাসক আব্দুস সালাম।

গত শুক্রবার (৮ মে) রাজধানীর বনশ্রী স্টাফ কোয়ার্টার এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, দুপুর আড়াইটায় চারদিকে রোদের ঝলকানির মাঝেও সড়কে জ্বলছে সড়কবাতি। তাও আবার একটি দুটি নয়, মেরাদিয়া থেকে ত্রিমোহনী পর্যন্ত এমন অসংখ্য সড়ক বাতি জ্বলছে। 

স্থানীয়দের অভিযোগ, কয়েক ঘণ্টা ধরে জ্বললেও কোনো পদক্ষেপ নেয়নি ঢাকা দক্ষিণের বিদ্যুৎ বিভাগ। এক্ষেত্রে দায়িত্বে অবহেলা ও তদারকির ঘাটতি দেখছে এলাকাবাসী।

এসময় জনগণ কষ্ট পাচ্ছে, আর এদিকে খামাখা রাস্তায় লাইট জ্বলতেছে। যার অবহেলায়ই হোক, আর যার ভুলেই হোক, এটা অবশ্যই অপরাধ।

এটাতো অপচয়। সিটি কর্পোরেশনের সরকারি অর্থের অপচয় হচ্ছে।

এটাতো ঠিক না। এমনিতে লোডশেডিং হচ্ছে, কারেন্ট যায়। এদের সতর্ক থাকা দরকার।  

সড়কবাতি জ্বলার বিষয়টি জানাতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) বিদ্যুৎ বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মাহতাব আহমেদকে ফোন করা হলেও সাড়া মেলেনি। 

নগরবিদেরা বলছেন, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের সময়ে এমন অব্যবস্থাপনার দায় সিটি করপোরেশনকেই নিতে হবে।

নগরবিদ ড. আদিল মোহাম্মদ খান বলেন, ‘কর্পোরেশন এবং যারা বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ সবার আসলে নজরদারি বাড়ানো উচিত যে, কাদের গাফিলতিতে আমরা দিনের বেলায় মূল্যবান বিদ্যুৎটা অপচয় করছি। এটার একটা অপরচুনিটি কস্ট আছে। এখানে যদি বাতিটা নিভত, তাহলে হয়তো কোনো একটা বস্তি বা কোনো একটা দরিদ্র পরিবারে, কিংবা গ্রামের কোনো একটা ঘরে বাতি জ্বলত। এই বিষয়টাকে আমলে নিয়ে অবশ্যই যদি কারো গাফিলতি থাকে অবশ্যই তাদেরকে এখান থেকে চিহ্নিত করা উচিৎ।

দায়িত্বরতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম।  

তিনি বলেন, ‘এটা কোনোভাবেই কাম্য নয়। যেহেতু মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আজকে বিদ্যুৎসহ সবকিছুতেই আজকে কৃচ্ছ্রসাধনের কথা বলেছেন। আজকে অর্থনৈতিক মন্দা শুধু বাংলাদেশে নয় সারা পৃথিবীতেই চলছে। কাজেই এই অবস্থায়তো মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা আমাদেরকে পালন করতে হবে। তো কোথাও যদি এর বিচ্যুতি ঘটে থাকে সেটার বিরুদ্ধে আমি ব্যবস্থা নেব।’ 

শুধু অপচয় নয়, বিদ্যুৎ চুরির দিকেও নজর দেয়ার তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা