রাজধানীতে এআই ক্যামেরায় এক সপ্তাহে ৮শ’র বেশি মামলা

রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে বসানো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির ক্যামেরার সহায়তায় এক সপ্তাহে আট শতাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে। শিগগিরই বসছে আরো দেড় হাজার এআই ক্যামেরা। এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে এক বছরে এআই ক্যামেরার মাধ্যমে মামলা হয়েছে প্রায় ১২ হাজার। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

রাজধানীর সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে মামলার সিদ্ধান্তকে নগরবাসী ইতিবাচক বললেও, এ প্রক্রিয়ায় কিছু জটিলতার শঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাই বিভ্রান্তি এড়াতে সতর্ক থাকার তাগিদ দিচ্ছেন তারা। 

গত ২২ শে এপ্রিল বুধবার সন্ধ্যা ছয়টা ৪৪ মিনিটে রাজধানীর এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে ১১৪ কিলোমিটার গতিতে চলছিলো সাদা রঙের একটি প্রাইভেটকার। নিয়ম ভাঙার সে দৃশ্য ধরা পড়ে এআই ক্যামেরায়। ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অতিরিক্ত গতির কারণে করা হয় মামলা। 

এইআই ক্যামেরা দেখে ট্রাফিক আইনে মামলা হয়েছে বিচারকসহ পুলিশ ও র‍্যাব কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও। কেবল দিনে নয়, রাতেও গাড়ির ভেতরের অনেক অনিয়মের চিত্রই চলে আসছে পুলিশের হাতে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) এসআই লেলিন কান্তি হাওলাদার বলেন, 'প্রতিটি গাড়িরই গতি শনাক্ত করছে এআই ক্যামেরা। যে গাড়ির যত গতি থাকবে, যদি ৮০ কিলোমিটারের ওপরে আসে, তখনই সে আমাকে বলে দিবে।'

এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে পর বিজয় সরণি, কারওয়ান বাজারসহ ১০টি পয়েন্ট বসানো হয় ক্যামেরা। ফুটেজ যাচাই-বাছাই শেষে দেওয়া হচ্ছে ডিজিটাল মামলা। এক সপ্তাহে সড়কে মামলা হয়েছে আট'শর বেশি। আর ক্যামেরা বসাতে প্রাথমিকভাবে খরচ হয়েছে ৬০ লাখ টাকা। 

ডিএমপি'র অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার আনিসুর রহমান বলেন, 'তদবির নাই। কারণ এখনতো ফোন করতে হলে ক্যামেরাকে করতে হবে। ক্যামেরাতো আপনার ফোনের উত্তর দিবে না। আর আগে একটা জায়গায় গাড়িটা ধরার সঙ্গে সঙ্গে একটা ফোন চলে আসত। আমার ধারণা যে, এই অফিসের ফোন নাম্বার সবার কাছেই আসে। ফোন করেই একটা বিরাত পরিচয় দিত।'

তিনি আরও জানান, 'আমাদের খুব সন্তুষ্টির জায়গা সেটা হচ্ছে এআই।'

এদিকে, পরিবহন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বচ্ছ নম্বর প্লেট না থাকলে ক্যামেরা ভুল নম্বর চিহ্নিত করার ঝুঁকি রয়েছে। এছাড়া সংখ্যাগত বিভ্রান্তিরও শঙ্কা জোরাল।

পরিবহন বিশেষজ্ঞ সাইফুন নেওয়াজ বলেন, 'বড় গাড়ি চলছে, গণপরিবহন চলছে, ছোট গাড়ি চলছে, এনএমভি চলছে, ব্যাটারি রিক্সা চলছে, সেক্ষেত্রে আমি প্রযুক্তি যখন নিয়ে আসব তখন কিছু কিছু সতর্কতা আমাদের রাখতে হবে। যেমন হচ্ছে যে, আমাদের লেন ডিসিপ্লিন যদি না থাকে তাহলে এআই নিয়ে কাজ করা খুব কঠিন।' 

তিনি আরও জানান, রাস্তায় বিভিন্ন ধরণের গাড়ির ক্ষেত্রে যদি দেখা যায় যে, আইডেনটিফাই করা যায় এমন একটি গাড়ি নিয়ম মেনে দাঁড়িয়ে আছে, অন্যদিকে অনিবন্ধিত কোনো গাড়ি যাকে চিহ্নিত করা যাচ্ছে না সে চলে যাচ্ছে- এটা একটা বিরুপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।

ডিএমপি সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা সড়কে প্রতিদিন অন্তত ২০ লাখ যানবাহন চলাচল করে। গাড়ির চুরি রোধেও কাজ করবে এআই ক্যামেরা।