রাজধানী মিরপুরের কালশি বস্তিতে ভয়াবহ আগুনে পুড়ে গেছে কয়েকশ ঘর। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় রাত সাড়ে ৯টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে ফায়ার সার্ভিস। তাৎক্ষণিকভাবে আগুন লাগার কারণ জানা না গেলেও বস্তিবাসীর অভিযোগ, এই আগুন পরিকল্পিত। ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জানান, এরই মধ্যে সন্দেহজনক একজনকে আটক করা হয়েছে।
আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায় মিরপুরের কালশি বস্তি। সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় আগুন লাগার সাথে সাথে ছড়িয়ে পড়ে পুরো বস্তিতে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে ফায়ার সার্ভিসের ১৫টি ইউনিট। কিছু বুঝে ওঠার আগেই পুড়ে ছাই কয়েকশ ঘরবাড়ি।
বস্তির এক বাসিন্দা বলেন, ‘আগুন ধরার পর আইতে আইতে দেখি সব শেষ হয়ে গেছে।’
আগুন নেভাতে ঘণ্টা খানেক সময় পেরিয়ে গেলে দেখা দেয় পানির সংকট। সাহায্যে এগিয়ে আসে স্থানীয়রা। বস্তিবাসী বলছেন, আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় শেষ সম্বলটুকু নিয়েও বের হতে পারেনি।
স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, এইখানে এক থেকে দেড় শো ঘর হবে। কেউ কিছু বের করতে পারিনি।
আরেক নারী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার সব শেষ হয়ে গেছে। আমি পরনের কাপড় ছাড়া একটা সুতাও ঘর থেকে বের করতে পারিনি।’
প্রাথমিকভাবে আগুন লাগার কারণ জানাতে পারেনি ফায়ার সার্ভিস। তবে ভাঙারি দোকান ও প্লাস্টিক জাতীয় পদার্থ থাকায় আগুনের তীব্রতা বেড়েছে।
ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (প্রশিক্ষণ উন্নয়ন ও পরিকল্পনা) লে. কর্নেল আজাদ আনোয়ার বলেন, ‘এইখানে প্রায় ৩ থেকে সাড়ে ৩ হাজার লোকের বসতি। আগুনের সংবাদ পাওয়ার পর আমরা স্থানীয়, র্যাব, পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় রাত ৯টার দিকে আগুন নেভাতে সক্ষম হই।’
সর্বস্ব হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে রাত পার করছেন ক্ষতিগ্রস্তরা। তাদের অভিযোগ, এই আগুন পরিকল্পিত। আগুন লাগার কারণ খতিয়ে দেখা হবে বলে জানান ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল ইসলাম।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘সন্দেহ করা হচ্ছে এখানে সাবোটাইজ করা হয়েছে কিনা। পুলিশকে এরই মধ্যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এখানে এলাকাবাসীর কিছু অভিযোগ শুনলাম। আমরা এগুলো খতিয়ে দেখব এবং তাদের পুনর্বাসনের জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, ক্ষতগ্রস্তদের তালিকা করা হচ্ছে। এরই মধ্যে ১০ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত বুধবার এই বস্তিটিই উচ্ছেদে যায় পুলিশ। সে সময় পুলিশের সঙ্গে বস্তিবাসীর সংঘর্ষ হয়।