১০ বছর পর বাড়ি ফিরছিলেন প্রবাসী আরিফুল, সড়কে ঝরল মা-ভাই-বোনসহ তাঁর প্রাণ

১০ বছর পর দেশে ফিরছেন ছেলে। প্রবাসী ছেলেকে স্বাগত জানাতে মেয়ে, নাতি-নাতনি ও আরেক ছেলেকে নিয়ে বিমানবন্দরে যান মা আয়েশা আক্তার। ছেলেকে স্বাগত জানিয়ে বিমানবন্দর থেকে যশোরে ফিরছিলেন তারা। কিন্তু পথে সড়ক দুর্ঘটনায় দুই শিশু বেঁচে গেলেও সড়কে ঝরে যায় প্রবাসীসহ একই পরিবারের চারজনের প্রাণ।

সোমবার ভোর পৌনে ৪টার দিকে ফরিদপুরের ভাঙ্গার এক্সপ্রেসওয়েতে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকের পেছনে প্রাইভেট কারের ধাক্কায় পাঁচজন নিহত হন। 

নিহতরা হলেন–যশোরের ঝিকরগাছা এলাকার বাকড়া ইউনিয়নের বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের মালয়েশিয়া প্রবাসী আরিফুল ইসলাম (২৫), তাঁর মা নুরজাহান বেগম (৫০), বোন আয়েশা আক্তার (৩৮) এবং ছোট ভাই রাকিবুল ইসলাম (১৯)। নিহত চারজন একই গ্রামের শহিদুল ইসলামের স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়ে।

নিহত অপরজন প্রাইভেট কারের চালক জাহিদ হোসেন (৩২)। তিনি মনিরামপুর উপজেলার গৌরপুর গ্রামের মো. ইসলামের ছেলে।

এ ঘটনায় আহত দুই শিশু আশরাফুল হোসেন (০৮) ও তাসফিয়া (০৩) ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আহতরা নিহত প্রবাসীর ভাগনা-ভাগনি।

স্বজনেরা জানান, দীর্ঘ ১০ বছর ধরে মালয়েশিয়া প্রবাসী ছিলেন রাকিব হোসেন। গতকাল রাতে তিনি দেশে ফিরলে তাঁকে রিসিভ করেন তাঁর মা, বোন, ছোট ভাই ও দুই ভাগনা-ভাগনি। এরপর তাকে নিয়ে এয়ারপোর্ট থেকে বাড়িতে ফিরছিলেন তারা। পথে ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের মালিগ্রামে দাঁড়িয়ে থাকা বিকল ট্রাকের পেছনে প্রাইভেট কারের ধাক্কায় পাঁচজন নিহত হন। এ ঘটনায় দুই শিশু সামান্য আহত হয়।

মাদারীপুরের শিবচর হাইওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, ভোরের দিকে ঢাকা থেকে যশোরগামী একটি প্রাইভেট কার দ্রুতগতিতে আসার সময় দাঁড়িয়ে থাকা বিকল ট্রাকের পেছনে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই দুই নারী এবং দুই পুরুষ মারা যান। গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে আরও এক ব্যক্তিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে তিনিও মারা যান। প্রাইভেট কারে থাকা দুই শিশু সামান্য আহত হয়েছে।