রাজধানীতে পৃথক ঘটনায় লাফিয়ে পড়ে দুই নারীর মৃত্যু

রাজধানীর ধানমন্ডি ও বাড্ডা এলাকায় পৃথক ঘটনায় হাসপাতাল ও আবাসিক ভবন থেকে নিচে পড়ে দুই নারীর মৃত্যু হয়েছে। শনিবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে তাদের মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে।

নিহতরা হলেন ধানমন্ডির আসমা আক্তার এবং বাড্ডার আফতাবনগরের মনিকা আক্তার।

ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, শুক্রবার দুপুরে ধানমন্ডির বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একটি কেবিনের বারান্দা থেকে আসমা আক্তার নিচে পড়ে যান। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ আসমার স্বামী সাফিউল্লাহকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছে।

নিহত আসমার ভাই মোজাম্মেল হক অভিযোগ করেন, দাম্পত্য কলহের জেরে তার বোনকে ধাক্কা দিয়ে আটতলা থেকে ফেলে দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, আসমার বাড়ি নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি এলাকায়। তিন বছর আগে সাফিউল্লাহর সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তাদের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। স্বামীর অসুস্থতার কারণে আসমা হাসপাতালে অবস্থান করছিলেন। ঘটনার সময় কেবিনে স্বামী ছাড়া অন্য কেউ ছিলেন না বলেও দাবি করেন তিনি।

অন্যদিকে, বাড্ডা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ফাতেমা সিদ্দিকা সোমা জানান, শুক্রবার বিকেলে আফতাবনগরের একটি আবাসিক ভবনের নিচ থেকে মনিকা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

মনিকার পরিবার জানায়, তিনি দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন এবং চিকিৎসাধীন ছিলেন। শুক্রবার বিকেল সোয়া ৩টার দিকে বাসার আটতলা থেকে লাফিয়ে পড়ে তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মনিকার বোন মোমিনা আক্তার মৌ জানান, তাদের গ্রামের বাড়ি গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায়। মনিকা স্বামী ও এক সন্তানকে নিয়ে আফতাবনগরে বসবাস করতেন।

দুই ঘটনার ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ ঘটনাগুলোর তদন্ত করছে।