শিশু হত্যার অভিযোগে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সবিবুর রহমানকে স্ত্রীসহ গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার দুপুরে ধানমন্ডি থেকে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এর আগে, ১১ তলা থেকে পড়ে ৯ বছরের শিশু রিক্তার মৃত্যুর ঘটনায় হত্যা মামলা করেছে নিহতের পরিবার।
৯ বছরের শিশু রিক্তাকে মাসে ৪ হাজার টাকা বেতনে ঢাকায় কাজে দেয় তার পরিবার। ১১ তলা থেকে পড়ে তার মৃত্যুর পর, কোনো সমবেদনাই এখন শোক কমাতে পরাছে না, রিক্তার মায়ের।
সুনামগঞ্জের সাল্লা থেকে দালালের মাধ্যমে মেয়েকে কাজে পাঠান দিনমজুর বাবা। ১০ হাজার টাকা চুক্তিতে তাকে ঢাকায় আনা হয়।
পরিবারটির দাবি নির্যাতন করা হতো শিশু রিক্তাকে। মৃত্যুর আগের দিন মায়ের সঙ্গে মোবাইলে কথা হয় রিক্তার। বাড়ি নিয়ে যাওয়ার জন্য তখন আবদার করে কান্না করে শিশুটি। এছাড়া,রিক্তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন আছে বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবারের সদ্যসরা।
শিশুর রিক্তার বাবা বলেন, ‘মেয়েটা যেদিন মারা গেছে, এর আগের দিন ওরে মারছে (পিটিয়েছে)। আমারে ফোনে কইতেছে,আমি অসুস্থ, কাইলকা আইয়া আমারে নিওগা। আমি রাইত পোয়াইলেই (পরদিন) নিতে আইতাম। এরমধ্যেই এই ঘটনাটা ঘটছে।’
এক স্বজন দাবি করেন, রিক্তার হাতে দুই জায়গায় কোপের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
তবে ভিন্ন তথ্য দিয়েছে ভবনের নিরাপত্তা কর্মীরা। তারা আহত মেয়েটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়। তাদের দাবি রিক্তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন নেই।
এক নিরাপত্তাকর্মী বলেন, ‘হাতে ওইটা কোপের দাগ ছিল না। আসলে হাত ভেঙে ছিড়ে গেছে। মাংসসহ ছিড়ে গেছে। আমরা কোপের আলামত পাইনি।’
এ ঘটনায় গৃহকর্তা প্রকৌশলীকে আটক করা হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, ঘটনার সময় তিনি ও তার স্ত্রী ঘুমিয়ে ছিলেন। এদিকে, তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ডিএমডপির এডিসি(মিডিয়া) নিয়াজ মেহেদী বলেন, ‘এ বিষয়ে আমাদের মামলা হয়েছে। দুজন আসামি গ্রেপ্তার করা রয়েছে। গৃহকর্তা ও গৃহকত্রীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। তদন্ত স্বাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ঈদুল আজহার ১৫ দিন আগে পরিচিত একজনের মাধ্যমে শিশুটিকে ওই বাসায় কাজে আনে পরিবারটি। ধানমন্ডিতে প্রায় আড়াই হাজার স্কয়ারফিটের আধুনিক ফ্ল্যাটে থাকতেন ওই দম্পত্তি।