নরসিংদীতে শহর থেকে প্রত্যন্ত গ্রাম, সবখানেই ছড়িয়ে পড়েছে ইয়াবা, গাঁজাসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য। সীমান্তবর্তী জেলা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কাছাকাছি হওয়ায় এই জেলাটিকে রুট হিসেবে ব্যবহার করে রাজধানীসহ বিভিন্ন জায়গায় মাদক পরিবহণের অভিযোগ রয়েছে। মাদক সেবন ও ব্যবসা কেন্দ্র করে বাড়ছে নানা অপরাধও। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অভিযান জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
নরসিংদী শহর ও চরাঞ্চলসহ জেলার ৬টি উপজেলার আনাচে-কানাচে এখন হাত বাড়ালেই মিলছে ইয়াবা ও গাঁজা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে পুরুষের পাশাপাশি কৌশলে নারী ও শিশুদের ব্যবহার করা হচ্ছে বাহক হিসেবে।
সহজলভ্য হওয়ায় প্রকাশ্যেই চলছে মাদক সেবন ও বিক্রি। এতে যেমন ধ্বংস হচ্ছে তরুণ সমাজ, তেমনি এলাকায় বাড়ছে অপরাধ প্রবণতাও। ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক, রেলপথ ব্যবহার করে জেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদকের অবাধ প্রবেশ ঘটছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সাম্প্রতিক সময়ে মাদক কারবারি ও সেবীদের তৎপরতা বাড়ায় প্রতিবাদ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন অনেকে।
স্থানীয় এক সচেতন ব্যক্তি বলেন, মাদকে বাধা দিতে গেলে মাদক সংশ্লিষ্ঠরা আক্রমণ করে। যেটি আমরা দেখতে পাচ্ছি।
আরেক ব্যক্তি বলেন, যারা প্রতিবাদ করেছে, আমার মতো তারা মাইর খেয়েছে। তাদেরকে লাঞ্ছিত করেছে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, অতিষ্ঠ হয়ে জেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদকবিরোধী প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন তারা। এমনকী স্থানীয় উদ্যোগে ধ্বংস করা হচ্ছে উদ্ধার করা মাদকও।
স্থানীয় এক ব্যক্তির অভিযোগ করে বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া হইয়া, বিভিন্ন এলাকা দিয়া, দুর্গম চরাঞ্চল দিয়া মাদক আসে।
আরেকজন বলেন, আইন–প্রশাসন যদি কঠোর না হয়, সেক্ষেত্রে মাদক নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়।
জনবল সংকটে একা বড় পদক্ষেপ নিতে পারছে না বলে জানিয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। তবে পুলিশ বলছে, গত ৬ মাসে জেলাজুড়ে ৩০ হাজার পিসের বেশি ইয়াবাসহ বহু কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর নরসিংদীর উপ-পরিচালক মোহাম্মদ হাবিব তৌহিদ বলেন, আমাদের মাদক অপরাধ দমনের জন্য যে পরিমাণ জনবল দরকার আসলে আমার সেই পরিমাণ জনবল নেই। সংকট আছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পাশের জেলা হওয়াতে এখানে গাজার একটা সমস্যা আছে।
নরসিংদী জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুজন চন্দ্র সরকার বলেন, আপনারা আমাদেরকে তথ্য দেন। আমরা যদি মনে করি আপনার সহযোগিতা প্রয়োজন আছে, প্রয়োজনে আপনাকে সাথে নিয়ে অভিযানে যাব। কিন্তু নিজে আইন হাতে তুলে নেবেন এরকম যাতে না হয়। মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবী যারা এবং এদের পৃষ্ঠপোষক যারা, তাদেরকে আমরা আইনের আওতায় নিয়ে আসব।
মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের সমন্বিত এবং টেকসই উদ্যোগ অব্যাহত রাখার দাবি স্থানীয়দের।