রাজধানীতে গড়ে দিনে একটি খুনের মামলা, পেশাদার ১১৭ চক্র সক্রিয়

গত ২১ মাসে রাজধানীতে গড়ে প্রতিদিন একটি করে খুনের মামলা হয়েছে। আর মাসে গড়ে ডাকাতি ও ছিনতাই মামলা ৩৬টি। পুলিশের তথ্য বলছে, রাজধানীতে শতাধিক পেশাদার অপরাধী চক্রের দৌরাত্ম্য। তবে, তাদের নিয়ন্ত্রণে পুলিশের জোরালো ভূমিকা দৃশ্যমান না হওয়ায় উঠেছে প্রশ্ন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর নির্দেশনা ও জবাবদিহির আওতায় না আনলে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে পরিস্থিতি।

গত ২৮ এপ্রিল সন্ধ্যায় ঢাকার নিউমার্কেট এলাকায় গুলি করে হত্যা করা হয় সন্ত্রাসী নাঈম আহমেদ ওরফে টিটনকে। ঘটনার দেড় মাস পরও গ্রেপ্তার হয়নি কেউ।

গত ১২ জুন বেলা পৌনে ২টার দিকে রামপুরায় বাংলাদেশ টেলিভিশন ভবনের উল্টো দিকে নিজ বাসার কাছে গুলিবিদ্ধ হন পুলিশের তালিকাভুক্ত ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ ইয়াছিন খান পলাশ ওরফে কাইল্যা পলাশ। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য বলছে, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে এ বছর মে মাস পর্যন্ত ২১ মাসে ঢাকা মহানগরে খুনের মামলা হয়েছে ৫৯৭টি। ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের মামলা ৭৭৩টি। আর একই সময়ে কেবল ঢাকাতেই পুলিশের ওপর হামলা হয়েছে ১৪২ বার।

সম্প্রতি এ নিয়ে কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও সালাহউদ্দিন আহমদও। জানান, রাজধানীতে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, ৫ মাসেই গ্রেপ্তার ১৮ হাজার। 

ঢাকা মহানগর পুলিশের তথ্য, রাজধানীতে ১১৭টি পেশাদার অপরাধী দল দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। ভাড়াটে খুন, ছিনতাই, ডাকাতি, চাঁদাবাজিসহ নানা অপরাধে তাদেরকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে প্রভাবশালীরা।

বিশ্লেষকরা বলছেন, গণমাধ্যম বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচিত ঘটনা ছাড়া সক্রিয় হচ্ছে না পুলিশ। 

সমাজ ও অপরাধ বিশ্লেষক ড. তৌহিদুল হক বলেন, যারা নিয়ন্ত্রণ বা প্রতিরোধের দায়িত্বে আছেন তাদের মধ্যে কেউ কেউ অপরাধীদের সাথে বা অপরাধ হতে দেওয়া, বিলম্বিত ব্যবস্থা গ্রহণ করা, এসব প্রসঙ্গে কী পরিমাণ যোগসাজশ আছে; সেটাও খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা গ্রহণ প্রয়োজন। 

গণঅভ্যুত্থানের পর পুলিশ ফের ঘুরে দাঁড়ালেও বাহিনীর পুনর্গঠন ও সক্ষমতার জন্য কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি, বলছেন বিশ্লেষক।

সমাজ ও অপরাধ বিশ্লেষক ড. তৌহিদুল হক বলেন, অপরাধ পরিস্থিতি বাড়ার পেছনে স্থায়ী কারণগুলো সমাধান না করে আমরা যদি কিছু উপসর্গ সমাধানের চেষ্টা করি; কোনো এলাকার সমস্যা সমাধান করা যাবে না। 

পুলিশ নাম-পরিচয় জানলেও ধরাছোয়ার বাইরেই থেকে যাচ্ছে অধিকাংশ। এ কারণে ভূমিকা উঠেছে বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে।