কোমর পানি ঠেলে তিন ঘণ্টা ভেজা কাপড়ে পরীক্ষা, কেন্দ্র পরিবর্তন 

ভোর ৬টা থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত কুমিল্লাতে মাত্র তিন ঘণ্টায় ১০৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। অতি ভারী বৃষ্টিতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। 

সকাল ৯টায় পরীক্ষার হলে এসে কোমর সমান পানি মাড়িয়ে হলে যেতে হয়েছে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রের প্রায় এক হাজার পরীক্ষার্থীদের। পানির উচ্চতা আরও বৃদ্ধি পাওয়ায় কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে দুটি নৌকা ও দুটি ভ্যানের ব্যবস্থা করা হয়। অনেক পরীক্ষার্থী বৃষ্টির কারণে দেরিতে আসায় আধাঘণ্টা বেশি সময় পরীক্ষা দিয়েছে এই কেন্দ্রের শিক্ষার্থীরা। কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের সামনে দিয়ে সদর হাসপাতালে আসা-যাওয়াকারি সেবা প্রার্থীদেরকেও হয়েছে চরম ভোগান্তিতে। 

কুমিল্লা উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ডক্টর মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম জানান, আগামী পরীক্ষার জন্য কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রের পরীক্ষার্থীরা কুমিল্লা নগরীর অজিত গুহ মহাবিদ্যালয় কেন্দ্রে স্থানান্তরিত হয়ে পরীক্ষা দেবে। পরবর্তীতে অন্যান্য পরীক্ষার জন্য যে সিদ্ধান্ত সেটি আবারও জানিয়ে দেওয়া হবে। 

পরীক্ষার মাঝামাঝি সময়ে কথা হয় কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কাজী আপন তীবরানির সঙ্গে। তিনি জানান, যখন পরীক্ষা শুরু হচ্ছিল তখন বৃষ্টিও হচ্ছিল। আবার কলেজ ক্যাম্পাসে প্রচুর পানি জমে যায়। যে কারণে পরীক্ষার্থীদের আসতে দেরি হয়। আমরা কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যানের নির্দেশক্রমে ৩০ মিনিট বেশি পরীক্ষা নিয়েছি এই কেন্দ্রে।

পরীক্ষা শেষে কথা হয় কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের শিক্ষার্থী ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের মাহিন আহমেদের সঙ্গে। মাহিন বলেন, আজকে হিসাব বিজ্ঞান পরীক্ষা ছিল। বাসা থেকে রিকশা নিয়ে এসে ঠিক কেন্দ্রে সামনে কোমর সমান ভিজে গেছি। এই নিয়ে টানা তিন ঘণ্টা পরীক্ষা দিতে হয়েছে। জ্বর উঠে গেছে। অনেকেরই একই অবস্থা। 

একই কলেজের শিক্ষার্থী সামন্তর রহমান জানান, মেয়ে পরীক্ষার্থীরা বোরকা পরে এসেছে যারা, তাদের অবস্থা আরও বেশি খারাপ। সারাক্ষণ ভেজা জামাকাপড় পরে থাকায় অনেকেরই শরীর খারাপ করেছে। আর এই অবস্থা দিয়ে পরীক্ষা দিতে এসে মানসিক অবস্থা ঠিক থাকে না। 
সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত পরীক্ষা কেন্দ্রের সামনে শত শত অবিভাবককে দেখা গেছে পানির উপর দাঁড়িয়ে সন্তানদের জন্য অপেক্ষা করতে। 
কলেজের সামনে অভিভাবক মনোয়ারা বেগম জানান, শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিতে এসে মানসিকভাবে ভোগান্তির শিকার হয়েছে।  আর যারা দীর্ঘক্ষণ যারা পরীক্ষা দিয়েছে তাদের শরীর ও খারাপ করবে। কিছুই করার নাই প্রাকৃতিক দুর্যোগ বলে কথা। তবে শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষের উচিত যেসব কেন্দ্র এমন পানির নিচে তলিয়ে যাবে সেগুলোর বিষয়ে আগে থেকেই চিন্তা ভাবনা করে রাখা। 

কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ প্রফেসর ড. শফিকুল ইসলাম বলেন, এখনো পর্যন্ত আমরা কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রটিকে আগামী পরীক্ষার জন্য স্থানান্তরের চিন্তাভাবনা করছি। শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান সভার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিয়ে সেটি জানিয়ে দেবেন। 

কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু জানান, কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে দ্রুত সময়ের মধ্যে পানি অপসারণের। যে পরিমাণ ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে তাতে এই ভোগান্তি তৈরি হয়েছে। আমি এবং আমার সিটি কর্পোরেশনের দল সারাক্ষণ মাঠে আছি।