মাত্র এক শ মিলিমিটার বৃষ্টিতেই রাজধানীর অলিগলি থেকে শুরু করে অভিজাত এলাকা, ব্যাংকপাড়া ডুবে যাচ্ছে। স্থবির হয়ে পড়ছে পুরো শহর। ঢাকার ৫০টি খালের মধ্যে কয়েকটি দ্রুত দখলমুক্ত করতে না পারলে, জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি নেই বলছেন বিশেষজ্ঞরা। আর ঢাকা দক্ষিণ সিটির প্রশাসক বলছেন, ড্রেন ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা ও যত্রতত্র পলিথিন ফেলায় নামতে পারছে না পানি।
কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতেই রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে তৈরি হয় জলাবদ্ধতা। পুরান ঢাকা থেকে শুরু করে অভিজাত গুলশান-বনানী যেনো রূপ নেয় সমুদ্রে। ধানমন্ডি-শাহজাহানপুর কিংবা ব্যাংকপাড়া মতিঝিলও হয় জলমগ্ন।
জলজটের কারণে সবচেয়ে ভোগান্তিতে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী এবং অফিসগামী মানুষ। গুরুতর অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে নিতেও পড়তে হচ্ছে বিপাকে।
বর্তমানে ১০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতেই পানি জমে স্থবির হয়ে পড়ে রাজধানী। ঢাকার ৫০টি খালের অন্তত ৫ থেকে ৭টি বড় খাল দখলমুক্ত করে দ্রুত খননের তাগিদ বিশেষজ্ঞদের।
আর, আরবান ড্রেনেজ মডেলিং বাস্তবায়ন করতে পারলে জলাবদ্ধতা দূর করা সম্ভব বলেও জানান বিশেষজ্ঞরা।
বুয়েটের ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার অ্যান্ড ফ্লাড ম্যানেজমেন্টের অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘নগর বন্যা ফোকাস করতে পারলে ভালো হয়। কিন্তু উন্নয়ন বোর্ডের একটি ডিপার্টমেন্ট আছে তারা নদীর বন্যা ফোকাসড করছে। কিন্তু শহরে নগর বন্যা কিন্তু অনেক হচ্ছে। আরবান ড্রেনেজ মডেলিং করলে এটা ইজিলি করা যায়। এই ক্যাপাসিটি আমাদেরও আছে।’
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম বলেন, ‘সমস্যাটা হয়ে গেছে পলিথিন। এটার ব্যাপারে আমাদের একটা আন্দোলন করতে হবে। আমি প্রধানমন্ত্রী ও পরিবেশ মন্ত্রীকে বলব–এই বিষয়ে যেন সরকার কঠোরভাবে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।’
পুরান ঢাকা ও পিলখানা এলাকায় পানি নিষ্কাশণে নালাগুলো সংস্কারের পরিকল্পনা ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্তৃপক্ষের।