ঢাবির চারুকলায় নাচে–গানে বর্ষা উদযাপন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলায় অনুষ্ঠিত হলো বর্ষা উদযাপনের উৎসব- ঘনঘটা। বর্ষার সৌন্দর্য, প্রকৃতি ও লোকঐতিহ্য নৃত্যের মাধ্যমে তুলে ধরা হয় এ আয়োজনে। দ্বিতীয় ঘনঘটা উৎসবে অংশ নেন ৩০০ নৃত্যশিল্পী। সকাল ১১টায় চারুকলার বকুলতলায় শুরু হয় এই উৎসব। 

বর্ষায় মেঘের ঘনঘটা। ....... বৃষ্টির ছন্দে নাচে নিত্যানন্দ। ..... ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চারুকলা ইনস্টিটিউটের বকুলতলায় জমজমাট বর্ষা উৎসবের আয়োজন - ঘনঘটা। 

দোসরা শ্রাবণে সকাল থেকেই নানাবয়সী বর্ষাপ্রেমিদের ভিড়। সবার জন্য উন্মুক্ত এই উৎসবে ছাতা আনা বারণ।..... লোকসমাগমে কানায় কানায় পূর্ণ পুরো বকুলতলা। সুরের মূর্ছনায় নৃত্যের ছন্দে শুরু বর্ষা বন্দনা। 

ঘনঘটা আয়োজনের এক অংশগ্রহণকারী বলেন, কে কোন ধর্মের, কার দেশের বাড়ি কোথায় এ টাইপের কোনো কিছুই আসলে মানে রাখে না। নাচটাই আসলে আমাদেরকে একত্রিত করে রেখেছে। 

আরেক অংশগ্রহণকারী বলেন, আকাশে যখন মেঘ জমে, তখন আমাদের মনে মেঘ জমে থাকে। যখন বৃষ্টি শুরু হয়, তখন আমাদের মনেও নাচন শুরু হয়। আমাদের দুঃখ–কষ্ট সব বৃষ্টির সাথে ধুয়ে যায়। 
 
আয়োজনে অংশগ্রহণকারী আরেক তরুণী বলেন, বর্ষার যে সৌন্দর্য আছে। শহরে বসেও যে বর্ষার সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়, সেটাকে তুলে ধরতে কিছুটা হলেও সক্ষম বলে আমি মনে করি। 

৩০০ নৃত্যশিল্পী অংশ নেন এবারের ঘনঘটা আয়োজনে। ৩ বছর থেকে ৭০ বছর বয়সী এই শিল্পীদের কেউই পেশাদার নন। নতুন প্রজন্মের কাছে বৃষ্টির সঙ্গে কৃষির সম্পর্ক তুলে ধরা হয় এবারের আয়োজনে।

অনুষ্ঠানে আসা এক দর্শক বলেন, ঋতুকে উদযাপন করা। বর্ষাকে যাপন করা। আমাদের মনের মধ্যে সেই ইচ্ছাটা থাকে। কিন্তু আমরা পারি না। 

আরেক অংশগ্রহণকারী বলেন, বর্ষা না হলে যেমন আমাদের ফসল খুব সুন্দর হয় না। ঠিক তেমনি আমাদের জীবনেও বর্ষা মঙ্গল আনে। 

আয়োজকরা জানান, বাংলায় আবহমান কাল থেকেই ঋতুভিত্তিক উৎসবের চল আছে। আর বর্ষার আবেদন সবসময়ই একটু ভিন্ন। তাই সংস্কৃতির এই ধারাবাহিক চর্চা সব প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে চান আয়োজকরা।

ঘনঘটার আয়োজক নৃত্যশিল্পী অর্থি আহমেদ বলেন, শিল্প,সংস্কৃতি, গান, নাচ– এগুলো আসলে বাঙালির রক্তে মিশে আছে। আমরা যতই চেষ্টা করি না কেন, এই মনটাকে আমরা বদলাতে পারব না। আমরা যতদিন বেঁচে আছি, এই উৎসবগুলো বেঁচে থাকবে। 
 
বর্ষা উৎসবে বন্যার্তদের সহয়তায় অর্থ সংগ্রহ করা হয়। মানবতার টানে দর্শনার্থীরা সেখানে সাধ্যমতো অংশ নেন।