ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের বিশেষ লেন এখন দুর্ঘটনার ফাঁদ

ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের যানজট কমাতে তৈরি করা হয়েছিল সরাসরি চলাচলের লেনের রাস্তা। কিন্তু ধামরাই অংশের এই লেনই এখন পরিণত হয়েছে দুর্ঘটনার ফাঁদে। দু-পাশে কংক্রিটের দেয়াল আর মাঝখানে কোনো বিভাজক না থাকায় প্রতিনিয়ত ঘটছে মুখোমুখি সংঘর্ষ। দ্রুত সমাধানের দাবি স্থানীয়দের।

ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের যানজট এড়াতে এবং যানবাহনের গতি বাড়াতে ধামরাই অংশের ঢুলিভিটা, শ্রীরামপুর, জয়পুরা, কালামপুরসহ কয়েকটি বাসস্ট্যান্ডে তৈরি করা হয় সরাসরি চলাচলের বিশেষ লেন।

তবে সড়ক ব্যবহারকারীদের অভিযোগ, পরিকল্পনার ঘাটতিতে এখন এই লেনই হয়ে উঠেছে আতঙ্কের কারণ। সরু এই লেনে একইসঙ্গে চলছে দুই দিকের যানবাহন। মধ্যবর্তী বিভাজক না থাকায় ওভারটেক করতে গেলেই তৈরি হচ্ছে ভয়াবহ ঝুঁকি। দুই পাশে কংক্রিটের দেয়ালের কারণে বিপরীত দিকের গাড়ির সরে যাওয়ারও সুযোগ না থাকায় ঘটছে সংঘর্ষ, বাড়ছে হতাহত।

এক মোটরসাইকেল চালক বলেন, ‘আগে যখন দেয়াল ছিল না তখন আমরা প্রয়োজনে বা কিংবা ডান দিকে যেতে হলে সেটা পারতাম। কিন্তু এখন এই ডিভাইডার থাকার কারণে গাড়ি যখন আমাদের চাপ দেয় তখন আর কোথাও যাওয়ার কিংবা সড়ে যাওয়ার জায়গা থাকে না।’

আরেকজন পথচারী বলেন, এইখানে ওভারটেকিং করার সময় প্রায় সংঘর্ষ হচ্ছে। এতে হতাহতের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে।’

সড়ক নিরাপত্তার স্বার্থে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ককে অগ্রাধিকার দিয়ে এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন ব্যবহারকারীরা।

ধামরাই শাখা ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ এর সভাপতি নাহিদ মিয়া বলেন, ‘এটা একটি ভুল নকশা হিসেবে প্রমাণিত হয়ে গেছে। আমাদের দাবি থাকবে এটিকে এক্সপ্রেসওয়ে করা যায় কিনা। কিংবা সরাসরি ফোর লেন বা ওয়ান বাই ওয়ান করা যায় কিনা। এ ধরনের পরিকল্পনা এখন সময়ের দাবি।’

এদিকে সাভারের নবীনগর থেকে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া পর্যন্ত ঢাকা-আরিচা মহাসড়ককে ফোর লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনা চলছে বলে জানিয়েছে মানিকগঞ্জ সড়ক বিভাগ। প্রকল্প বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে দেওয়া হয়েছে ডিও লেটার।

মানিকগঞ্জ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শাহরিয়ার আলম বলেন, ‘নবীনগর থেকে শুরু করে পাটুরিয়া পর্যন্ত সড়কটির প্রপার স্ট্যাডির মাধ্যমে ফোর লেনের উন্নতির পরিকল্পনা রয়েছে। প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলীর নির্দেশনায় অতিসত্তর আমরা এই কার্যক্রম শুরু করতে পারব আশা করছি।’

শুধু সাময়িক যানজট নিরসন নয়, ধামরাইবাসীদের দাবি ফোর লেন কিংবা এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের। সড়ক নিরাপদে দ্রুত বাস্তবায়নের প্রত্যাশা স্থানীয়দের।