রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এক যৌথ অভিযান চালিয়ে সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে গণপূর্ত অধিদপ্তর, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে মসজিদ নির্মাণের নামে ‘দখলের পাঁয়তারা’ চালানো একটি স্থাপনাও রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
রোববার দুপুরে পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে এই যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়। কর্মকর্তারা জানান, বারবার নোটিশ দেওয়ার পরও অবৈধ স্থাপনাগুলো সরিয়ে না নেওয়ায় এই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে। সে ক্ষেত্রে অন্য কোনো কিছু বিবেচনায় নেওয়ার সুযোগ নেই।
ডিএসসিসি বলছে, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে একটি মসজিদ থাকার পরও সম্প্রতি রাজিব শাহ নামের এক ব্যক্তির নেতৃত্বে আরেকটি ‘মসজিদ নির্মাণের নামে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের একাংশ দখলের পাঁয়তারা’ চালানো হচ্ছিল। সেখানে ইট, কাঠ ও বাঁশের খুঁটি গেড়ে ত্রিপলের ছাউনি টানানো হয়। এসবের একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থাপনাটি সরিয়ে নেওয়ার জন্য নোটিশ দেয় গণপূর্ত অধিদপ্তর।
সরকারি ওই নোটিশে বলা হয়, ‘সম্প্রতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে কিছু বহিরাগত অসাধু ভবঘুরে ও একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মন্দিরের গেট বরাবর কিছু অবৈধ দোকানপাট বসিয়েছে এবং উদ্যানের অ্যাম্ফিথিয়েটার সংলগ্ন কিছু স্থানজুড়ে অস্থায়ী প্রার্থনাকক্ষ নির্মাণের নামে উদ্যানের জায়গা দখল করে দিনরাত অবস্থান করছেন।’
‘প্রকল্পের আওতাধীন একটি আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন মসজিদ উদ্যানে থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র ব্যক্তিগত স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য এই বহিরাগতরা অস্থায়ী প্রার্থনাকক্ষ নির্মাণ করে নিয়মিত অবস্থান করছেন বলে সর্বসাধারণ মনে করছে।’
নোটিশে আরও বলা হয়, দখলের চেষ্টা চালানো ব্যক্তিদের বারবার ওই স্থান ছেড়ে যাওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হলেও তারা যায়নি। উল্টো হুমকি-ধমকি দেখানোর পাশাপাশি গণপূর্ত উপবিভাগের কর্মচারী ও আনসার বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে রূঢ় আচরণ করছে।
এমন পরিস্থিতিতে রোববার দুপুরে অভিযান চালিয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এলাকার সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়।
তথ্যসূত্র: বিবিসি বাংলা



