গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার পাইককান্দি গ্রামের শ্বশুরবাড়ির এলাকার পুকুর থেকে সোমবার সকালে বি. এম. মাহামুদুল ইসলাম (৩৮) নামে এক পুলিশ কর্মকর্তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বিজয়পাশা গ্রামের হায়দার আলী ভূঁইয়ার ছেলে এবং খাগড়াছড়ির মহালছড়ি এপিবিএন-৬–এ উপ–পরিদর্শক (সশস্ত্র) পদে কর্মরত ছিলেন।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী ফাতেমা কানিজ এবং শ্বশুর কবিরুল ইসলাম ওরফে ঝুনু শেখকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে সদর থানায় নিয়ে আসা হয়েছে।
নিহতের পরিবারের দাবি, স্ত্রীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে হত্যা করে পুকুরের পানিতে লাশ ফেলে রেখেছে।
স্থানীয়রা জানান, আজ শ্বশুরবাড়ির অদূরে একটি পুকুরে মরদেহ ভাসতে দেখে পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে গোপালগঞ্জ সদর থানা পুলিশ পুকুর থেকে বি. এম. মাহামুদুল ইসলামের মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ গোপালগঞ্জ আড়াই শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
নিহত পুলিশ কর্মকর্তার বড় ভাই বি. এম. আশিকুজ্জামান দাবি করেন, আমার ভাইয়ের স্ত্রী বাবার বাড়িতে থাকতেন। তাই ভাই ছুটিতে এলে শ্বশুরবাড়িতেই উঠতেন। এবার ছুটিতে বাড়িতে আসার পর শ্যালককে বিদেশে পাঠানোর জন্য টাকা দাবি করে। এ নিয়ে স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গে তার বিরোধের সৃষ্টি হয়। আমার ধারণা, শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে হত্যা করে পুকুরে ফেলে দিয়েছে। আমি প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনপূর্বক বিচার দাবি করছি।
নিহতের ছোট বোন নাদিরা সুলতানা বলেন, আমার ভাবি ভাইকে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে দিতেন না। এর আগে ভাবি আমার ভাইকে দুইবার খাবারের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে মারতে চেয়েছিলেন। আমরা সন্দেহ করছি, ভাবি ও ভাবির বাড়ির লোকজন আমার ভাইকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর মরদেহ পুকুরে ফেলেছে। আমরা এ ঘটনার বিচার চাই।
এ ব্যাপারে গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, গত শুক্রবার বি. এম. মাহামুদুল ইসলাম কর্মস্থল থেকে ছুটিতে এসে পাইককান্দি গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে ওঠেন বলে জানতে পেরেছি। ময়নাতদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। পরিবারের অভিযোগ পেলে সেই মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।