নরসিংদীর মাধবদীতে বাড়িতে ঢুকে মো. শাহজাহান (৫৬) নামের এক ব্যক্তিকে খুন ও ডাকাতির ঘটনায় জড়িত ডাকাত দলের ৭ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মাধবদী থানায় সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান নরসিংদীর পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল ফারুক।
এর আগে, গত ১৮ জুলাই ভোররাতে মাধবদী থানার নুরালাপুর ইউনিয়নের বলভদ্রদী গ্রামে সৌদি ফেরত মিলনের বাড়িতে ডাকাতি ও খুনের ঘটনা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- মাধবদী থানার খড়িয়া দক্ষিণপাড়ার হাসান আলীর ছেলে জুবায়ের হোসেন (২০), খড়িয়া উত্তরপাড়ার শাহজাহান মিয়ার ছেলে আশিক আহমেদ (২৩), আব্দুল আউয়ালের ছেলে মোজাহিদ রহমান অপু (২২), ইসলাম উদ্দিনের ছেলে মো. সুজন মিয়া (২৫), চরভাসানিয়া এলাকার হানিফ মিয়ার ছেলে মো. ফারুক মিয়া (৩০), নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার থানার যুগাইদা গ্রামের রোমান (২৮) ও বরিশালের কাজিরহাট থানার জয়নগর গ্রামের মো. হৃদয় মিয়া (২২)। এদের মধ্যে ৩ জন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।
পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল ফারুক জানান, ১৮ জুলাই ভোররাতে মাধবদী থানার নুরালাপুর ইউনিয়নের বলভদ্রদী গ্রামে সৌদি ফেরত মিলনের বাড়িতে একদল অজ্ঞাতনামা ডাকাত হানা দেয়। ডাকাতদের বাধা দিতে গেলে তাদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে মিলনের বড় ভাই মো. শাহজাহান (৫৬) নিহত হন এবং নিহত শাহজাহানের চাচা মো. সুরুজ মিয়া গুরুতর জখম হন। ডাকাত দল ওই বাড়ি থেকে প্রায় ১ ভরি ওজনের স্বর্ণালঙ্কার এবং দুটি মোবাইল সেট লুট করে পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় মাধবদী থানায় মামলার পর মাধবদী থানা পুলিশ ও ডিবি পুলিশের সমন্বয়ে একাধিক টিম কাজ শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ৯ দিনের মাথায় ডাকাত দলটিকে শনাক্ত ও ৭ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাসাবাদে আসামিরা ডাকাতি ও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।
পুলিশ সুপার আরও জানান, গ্রেপ্তারকৃত এই ডাকাত দলের সদস্যরা আগেও বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ছিল। এদের মধ্যে কয়েকজন খড়িয়া এলাকায় সংঘটিত ডাকাতি ও পাইকারচর ইউনিয়নের কোতোয়ালিচর এলাকায় সংঘটিত দিগন্ত হত্যা মামলার আসামি।
অভিযানে আসামীদের কাছ থেকে লুণ্ঠিত মালামালের অংশ হিসেবে নগদ ৮ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের ইতোমধ্যে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং লুণ্ঠিত বাকি মালামাল উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান এসপি।