শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় স্বামীকে গাছে বেঁধে রেখে এক গৃহবধূকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। সোমবার গভীর রাতে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে আটক করা হয়েছে। একই সঙ্গে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ভুক্তভোগীর স্বামীকেও পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
নড়িয়া থানা সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগীর স্বামীর সঙ্গে স্থানীয় কয়েকজনের মাদক ব্যবসা-সংক্রান্ত বিরোধ চলছিল। এর জের ধরে সোমবার রাতে অভিযুক্তরা তাকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে নড়িয়া উপজেলার আচুড়া এলাকায় গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখে। পরে তার মোবাইল ফোন ব্যবহার করে স্ত্রীকে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে সেখানে আসতে বলা হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর গৃহবধূকে জোর করে দুই ব্যক্তি ধর্ষণ করে। তার চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশকে খবর দেন। পরে নড়িয়া থানা পুলিশ স্থানীয়দের সহায়তায় ভোররাতে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।
মঙ্গলবার সকালে আচুড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে রাব্বি, হযরত আলী খন্দকার ও ইমন খন্দকার নামে তিনজনকে আটক করে পুলিশ।
ভুক্তভোগী নারী অভিযোগ করে বলেন, ‘রাতে কয়েকজন আমার স্বামীকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। পরে আমাকে ফোন করে টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে যেতে বলে। সেখানে গিয়ে দেখি, আমার স্বামীকে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছে। এরপর আমাকে একটি গাছের আড়ালে নিয়ে গিয়ে দুই ব্যক্তি ধর্ষণ করে। আমি অনেক অনুরোধ করেছি, তাদের পায়ে ধরেছি, কিন্তু তারা আমাকে ছাড়েনি।’
শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মিতু আক্তার বলেন, ‘ভোররাতে এক নারীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার চিকিৎসা চলছে। ধর্ষণের অভিযোগের বিষয়ে আলামত সংগ্রহের জন্য ভ্যাজাইনাল সোয়াব ও ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। পরীক্ষার ফল পাওয়ার পর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।’
নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাহার মিয়া বলেন, ‘স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই নারীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে তিনজনকে আটক করা হয়েছে। পাশাপাশি জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার স্বামীকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ভুক্তভোগীর স্বামীর সঙ্গে স্থানীয় একটি পক্ষের মাদক-সংক্রান্ত বিরোধ ছিল। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।’



