বর্ষা এলেই বাড়ে নৌকার কদর, শিবচরে ব্যস্ত কারিগররা

সারা বছর বিক্রি কম থাকলেও বর্ষায় নৌকার চাহিদা কিছুটা বাড়ে। তবে নদী-নালা ও খাল-বিল ভরাটে  এখন নৌকার প্রয়োজনীয়তা অনেক কম। এরকম নানা সংকটে চলছে মাদারীপুরের শিবচরের সুতারবাড়ির নৌকা কারিগরদের জীবিকা। তাই  বছরজুড়ে কাজের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থান চান সুতারবাড়ির শতাধিক নৌকা কারিগর। বিষয়টি আমলে নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।  

করাত আর হাতুড়ির শব্দ এবং কাঠের গন্ধে  মুখর মাদারীপুরের শিবচরের সুতারবাড়ি এলাকা। বর্ষা মৌসুম ঘিরে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে নৌকা তৈরির কাজ। কেউ কাঠ ছাঁটছেন, কেউ পেরেক লাগাচ্ছেন। ধীরে ধীরে কয়েকখণ্ড কাঠ রূপান্তরিত হয় নৌকায়।

বর্ষা এলে পানিতে চলাচল বাড়ায় নৌকার প্রয়োজন বাড়ে। কিন্তু নদী, খাল ও বিল ভরাট হয়ে যাওয়ায় নৌকা নির্ভরতা অনেকটা কমে আসছে। ফলে শত বছরের ঐতিহ্য বহনকারী এই হস্তশিল্প এখন নানা সংকটের মুখে।

এরই মধ্যে বর্ষা মৌসুমে নতুন আশায় বুক বাঁধেন শিবচরের সুতারবাড়ির কারিগররা। প্রত্যাশা, ঘুরে দাঁড়ানোর।

শিবচরে নৌকা তৈরিতে জড়িত কারিগরদের জন্য সরকারি ক্ষুদ্র ঋণ ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতার বিষয়টি বিবেচনা করবে বলে জানিয়েছেন উপজেলা 
নির্বাহী কর্মকর্তা।

মাদারীপুর শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এইচ এম ইবনে মিজান বলেন, ‘নৌকা তৈরিতে জড়িত কারিগরদের জন্য সরকারি ক্ষুদ্র ঋণ ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।’

মাদারীপুরের শিবচরে নৌকা তৈরির এ কাজে এখন পর্যন্ত শতাধিক কারিগর জড়িত। বেকার সময়গুলোতে তাদেরকে অন্যান্য উপার্জনমুখী কাজে সম্পৃক্ত করার দাবি স্থানীয়দের।