ক্যান্সার চিকিৎসার নামে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফাঁদ পেতে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণার দায়ে হোমিপ্যাথিক চিকিৎসক এস এম সরওয়ারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা শিক্ষা কাউন্সিল। বুধবার সকালে ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের অপরাধবিষয়ক অনুষ্ঠান ‘তালাশ’-এর টিমের হাতে আসে নোটিশটি।
নোটিশে বলা হয়েছে: বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ‘ইনডিপেনডেন্ট’-এর নিয়মিত সংবাদ সম্প্রচার এবং অপরাধবিষয়ক অনুষ্ঠান ‘তালাশ’-এর ৩০৯ নম্বর পর্বে ‘ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ প্রতারক’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রচারিত হয়। ওই প্রতিবেদনে ডা. এস এম সরওয়ার নিজেকে ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন এবং ক্যান্সারে আক্রান্ত কয়েকজন রোগীর চিকিৎসাসংক্রান্ত তথ্য ও রিপোর্ট উপস্থাপন করে নিজেকে ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছেন এমন অভিযোগের উল্লেখ করা হয়েছে।
নোটিশে আরও বলা হয়, টেলিভিশন, ফেসবুক, ইউটিউবসহ বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন বক্তব্য ও প্রচারপত্রে তিনি নিজেকে অধ্যক্ষ ডা. এস. এম. সরওয়ার এবং ক্যান্সার গবেষক হিসেবে দাবি করেছেন। একই সঙ্গে তার চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে বিভিন্ন তথ্য ও ভিডিও প্রচার করা হয়েছে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়।
কাউন্সিলের নোটিশ অনুযায়ী, প্রচারিত প্রতিবেদন ও অন্যান্য সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে অভিযোগ করা হয়েছে যে, তিনি মাত্র ৪ মাসে জটিল ক্যান্সার রোগ আরোগ্য করার সক্ষমতার দাবি করে রোগীদের প্রলোভন ও আশ্বাস দিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ গ্রহণ করেছেন। প্রচারিত প্রতিবেদনে রোগীদের বক্তব্যের মাধ্যমে এসব তথ্যের সত্যতা প্রমাণিত হয়েছে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া নোটিশে বলা হয়েছে, দেশের প্রচলিত চিকিৎসা পদ্ধতি ও হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা শাস্ত্রের পরিপন্থী কার্যক্রম পরিচালনা এবং পদ-পদবি, উপাধি ও ডিগ্রি ব্যবহারের বিষয়টি বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা শিক্ষা আইন-২০২৩-এর ২০ ও ৩০ ধারার আওতায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
এ অবস্থায় বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা শিক্ষা আইন-২০২৩, প্রচলিত বিধি-বিধান এবং চিকিৎসক হিসেবে নৈতিক আচরণ পরিপালনের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কাউন্সিল ডা. এস এম সরওয়ারের কাছে লিখিত জবাব ও ব্যাখ্যা চেয়েছে। নোটিশে নির্ধারিত ৭ (সাত) কর্মদিবসের মধ্যে যথাযথ কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী জবাব ও ব্যাখ্যা দাখিল করতে বলা হয়েছে।