কাস্টমস গোয়েন্দার অভিযানে ধরা 

শাহজালালের এয়ারফ্রেইটে দুই চালানে ঘোষণার চেয়ে ৩০ গুণ বেশি মূল্যের পণ্য! 

ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এয়ারফ্রেইট এলাকায় কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের (সিআইডি) অভিযানে একই আমদানিকারকের দুটি পৃথক এয়ারওয়ে বিলের (এডব্লিওবি) চালানে বিপুল পরিমাণ ল্যাপটপ, ট্যাব, আইপ্যাড ও গাড়ির যন্ত্রাংশে মিথ্যা ঘোষণা, পরিমাণগত অসামঞ্জস্য, অস্বাভাবিক কম মূল্য ঘোষণা এবং পণ্যের প্রকৃত অবস্থা গোপনের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে।

মঙ্গলবার সিআইআইডির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, চালান দুটির আমদানিকারক সরদার গ্লোবাল ট্রেড (বিআইএন: ০০৯১১৩৬৪৫–০১১১) এবং ফাবিম ফাইভ স্টার লিমিটেড। 

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রথম চালানটির এ ডব্লিওবি নম্বর ৯৯৭–৬৬৮৯০৭৫১ এবং সংশ্লিষ্ট বি/ই নম্বর ৮২১১৮৬। তারিখ: ১৩ আগস্ট ২০২৬। এই বি/ই–তে ঘোষিত মূল্য মাত্র সাড়ে ৩ হাজার ইউএস ডলার, অথচ কায়িক পরীক্ষা ও মূল্যায়নের পর সংশোধিত অনুমিত মূল্য দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩ হাজার ৫২৭ ইউএস ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ১ কোটি ২৭ লাখ ৮৫ হাজার ৫৮৪ টাকা।

কায়িক পরীক্ষায় এ চালানে ৫৪৩টি এইচপি কোর আই৫ ল্যাপটপ, ১৮৭টি এইচপি কোর আই৩ ল্যাপটপ এবং মিনি পিসি হিসেবে ঘোষিত কিন্তু পরীক্ষায় পাওয়া আরও ১০টি এইচপি কোর আই৫ ল্যাপটপ পাওয়া যায়। এছাড়া পাওয়া যায় ৫৫টি ট্যাব ও ৫টি আইপ্যাড। অর্থাৎ এ চালানে মোট ৭৪০টি ল্যাপটপ এবং ৬০টি ট্যাব/আইপ্যাড পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট ঘোষণার বিপরীতে ৪৩টি অতিরিক্ত ল্যাপটপ পাওয়ার বিষয়টিও পরীক্ষণ প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।

দ্বিতীয় চালানটির এডব্লিওবি নম্বর ৯৯৭–৬০৫০০৪৫১ এবং সংশ্লিষ্ট বি/ই নম্বর ৮২১১০৮, তারিখ ১৩ আগস্ট ২০২৬। এই বি/ই–তে ঘোষিত মূল্য মাত্র ২ হাজার ইউএস ডলার, অথচ কায়িক পরীক্ষা ও মূল্যায়নের পর সংশোধিত অনুমিত মূল্য দাঁড়িয়েছে ৬৪ হাজার ২৫৯ ইউএস ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৭৯ লাখ ৩৫ হাজার ৯৮৬ টাকা।

কায়িক পরীক্ষায় এ চালানে ৪৬টি কোর আই৩ ল্যাপটপ ও ৩৮১টি কোর আই৫ ল্যাপটপ, অর্থাৎ মোট ৪২৭টি ল্যাপটপ পাওয়া যায়। পাশাপাশি পাওয়া যায় ৩৫টি ট্যাব ও ৫টি আইপ্যাড। ঘোষিত মোট ল্যাপটপের তুলনায় ৩৯টি অতিরিক্ত ল্যাপটপ পাওয়া গেছে।

দুই চালান মিলিয়ে চাঞ্চল্যকর চিত্র

দুই বি/ই–তে সর্বমোট ঘোষিত মূল্য ছিল মাত্র সাড়ে ৫ হাজার ইউএস ডলার। অথচ কায়িক পরীক্ষা ও মূল্যায়নের পর সম্মিলিত অনুমিত মূল্য দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৬৭ হাজার ৭৮৬ ইউএস ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় মোট ২ কোটি ৭ লাখ ২১ হাজার ৫৭০ টাকা। 

অর্থাৎ ঘোষিত মূল্যের তুলনায় অনুমিত মূল্য প্রায় ৩০.৫ গুণ।

দুই এডব্লিওবি-এর কায়িক পরীক্ষায় সব মিলিয়ে ১ হাজার ১৬৭টি ল্যাপটপ এবং ১০০টি ট্যাব/আইপ্যাড পাওয়া গেছে। এর পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ গাড়ির যন্ত্রাংশ ও অন্যান্য পণ্যও পাওয়া যায়। দুই চালানে ঘোষণার অসামঞ্জস্যের অংশ হিসেবে যথাক্রমে ৪৩টি ও ৩৯টি অতিরিক্ত ল্যাপটপ পাওয়ার বিষয়টি পরীক্ষণ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো– কায়িক পরীক্ষায় প্রাপ্ত উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ল্যাপটপ বাহ্যিক অবস্থা দেখে prima facie ব্যবহৃত (Used) বলে প্রতীয়মান হয়েছে। পরীক্ষণ প্রতিবেদনেও এসব পণ্য “could be used as per external appearance” বলে উল্লেখ রয়েছে।   Prima facie ব্যবহৃত হিসেবে প্রতীয়মান এসব পণ্য প্রচলিত আমদানি নীতি আদেশ অনুযায়ী আমদানি নিষিদ্ধ পণ্যের আওতাভুক্ত।

এছাড়া ক্যাপাসেটর, রাবার সিল জিরো–রিং, গ্যাসকেট রাবার ও ফিটিংস হিসেবে ঘোষিত একাধিক পণ্য কায়িক পরীক্ষায় গাড়ির যন্ত্রাংশ (Car Parts) হিসেবে শনাক্ত হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে এইচএস কোড পরিবর্তনের বিষয়টিও পরীক্ষণ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ১৩ আগস্ট ২০২৬ চালান দুটির খালাস কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। পরবর্তীতে ২৩ আগস্ট ২০২৬ সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের প্রতিনিধির উপস্থিতিতে কায়িক পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়।

মিথ্যা ঘোষণা, অস্বাভাবিক কম মূল্য ঘোষণা, ঘোষণার অতিরিক্ত পণ্য, পণ্যের প্রকৃত বর্ণনা গোপন এবং আমদানি-নিষিদ্ধ ব্যবহৃত পণ্য আমদানির অভিযোগে কাস্টমস আইন, ২০২৩ এবং প্রযোজ্য আমদানি নীতি আদেশ অনুযায়ী পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর মিথ্যা ঘোষণা, শুল্ক-কর ফাঁকি এবং নিষিদ্ধ পণ্য আমদানি প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত রাখবে।