রাজধানীতে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের ব্যতিক্রমী এক পাঠশালা

অক্ষরজ্ঞানের সঙ্গে নৈতিক শিক্ষায় আলোকিত মানুষ হিসেবে বেড়ে উঠছে সুবিধাবঞ্চিত শিশুরা। হাতে-কলমে পাচ্ছে ছবি আঁকা, গান শেখারও সুযোগ। রাজধানীর গেন্ডারিয়ার দীননাথ লেনে ব্যতিক্রমী এমন পাঠশালা গড়ে তুলেছেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চিত্রশিল্পী লায়লা শার্মিন। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এগিয়ে চলেছে তার সানশাইন স্কুল। 

শিশুদের কলকাকলীতে মুখরিত ছোট্ট গ্যারেজ। ছুটির দিনে চলছে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাঠদান। অক্ষরজ্ঞানের পাশাপাশি অবৈতনিকভাবে শেখানো হচ্ছে ছবি আঁকা-গানসহ নানা বিষয়। 

একবছর আগে নিজ উদ্যোগে বাবার বাড়িতে সানশাইন কমিউনিটি স্কুলটি গড়ে তোলেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চিত্রশিল্পী লায়লা শার্মিন। আগামী দিনের নাগরিকদের জন্য শুধু অক্ষরজ্ঞানই নয়, জোর দেওয়া হচ্ছে নৈতিক শিক্ষায়ও।  

চিত্রশিল্পী লায়লা শার্মিন বলেন, ‘সমস্ত বিশ্বব্যাপী যা কিছু দেখছি– এত অসুস্থ একটা প্রতিযোগিতা, অসুস্থ পরিবেশ সেজন্য আমার মনে হয়েছে আচ্ছা আমরা তো মানুষ খুঁজে পাই না আর। তাহলে মানুষ তৈরি করতে হবে। সত্যিকারের সেই আদর্শলিপির সেই মানুষ তৈরি করতে হবে। তো সেই আদর্শলিপীর আদর্শ নিয়েই আমি এই সূর্যকিরণ স্কুলটি শুরু করি।’   

প্রকৃতি, ঐতিহ্য, লোকসাহিত্য সবকিছুর সাথেই শিশুশিক্ষার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিতে হাতে-কলমে শেখানো হচ্ছে ক্রাফটিং ও মৃৎশিল্পের কলাকৌশল।

নিজের চিত্রকর্মে আবহমান বাংলার প্রতিচ্ছবি ক্যানভাসে তুলে ধরেন লায়লা শার্মিন। উঠে আসে নাগরিক জীবনের বাস্তবতা ও জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বৈশ্বিক সংকটও।

চিত্রশিল্পী লায়লা শার্মিন বলেন, ‘আমাদের পাহাড় আমাদের ভাই। নদী আমাদের বোন। গাছ আমাদের বোন। এদেরকে আমরা বিনষ্ট করার কারণে পৃথিবী ধ্বংসের দিকে ধাবিত হচ্ছে। সেটা নিয়ে আমরা সচেতন হতে পারছি না।’ 

মিথোলজি ও প্রগতিশীল ভাবনার পাশাপাশি জীবনানন্দ দাশ ও চমস্কির দর্শন তাঁর অনুপ্রেরণা। নৈতিকতা ও সমঅধিকারের ভিত্তিতে আাগামী প্রজন্ম সমাজে ছড়িয়ে দেবে আলোকছটা-সেই সে প্রত্যাশায় স্বপ্ন বুনে চলেছে সানশাইন স্কুল।